You are here
Home > Movie Review > The World’s Fastest Indian (মুভি রিভিউ)-Dream Has no Age Limit

The World’s Fastest Indian (মুভি রিভিউ)-Dream Has no Age Limit

The World’s Fastest Indian
Spread the love

The World’s Fastest Indian

(মুভি রিভিউ)

স্বপ্ন পূরণের মাঝেই জীবনের আসল স্বার্থকতা নিহিত, তাই না? কিন্তু এই স্বপ্নপূরণে ঠিক কতটা শ্রম, সময় আর ডেডিকেশন আমরা দিচ্ছি বা দিতে পারছি? ঠিক কত বছর পর্যন্ত একে নিজের মাঝে ধারণ করতে পারছি এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে যে, মৃত্য যতক্ষন না আসবে স্বপ্ন না ছুঁয়ে ক্ষান্ত হব না!
নাহ, স্বপ্ন জয়ের এমন পাগলামি আমাদের মাঝে প্রায় নেই বলা যায়। খুব বেশি সময় আমরা এমন প্রতিজ্ঞা নিজের মাঝে ধারণ করতে পারিনা পর্যাপ্ত আত্মবিশ্বাসের অভাবে। খুব অল্প বয়সেই বুড়িয়ে যাই আমরা। আমরা ভেবে নেই যে, ছোট্ট জীবনে এতো ভেবে কি লাভ, স্বপ্ন স্বপ্নই থাক না!
আমাদের দেশে তো চাকরির বয়সসীমা অতিক্রম মানেই স্বপ্ন শেষ! ৩০ বছর বয়সের পর নিজের জীবন নিয়ে কেউ আর কিছু ভাবতেই পারে না! কারো বা আরও আগেই স্বপ্ন দেখায় অনীহা চলে আসে, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে তো বটেই! সাংসারিক দায়িত্ব আর সামাজিক বাধ্যবাধকতা সামলে নিজের স্বপ্ন নিয়ে ভাববারই অবকাশ মিলে না, তাই না!
আর বেশির ভাগ মানুষের খুব সাধারণ স্বপ্ন এটুকুই যে, পড়ালেখা শেষ করে একটা চাকরি করব, সংসার করব, অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে একটা মাথা গোজার ঠাই করব, তারপর বৃদ্ধ বয়সে সন্তানদের বোঝা হয়ে থেকে এক সময় মরে যাব।
কিন্তু না, পৃথিবীতে এমন কিছু পাগল থাকে যারা ইতিহাস তৈরী করে, দৃষ্টান্ত রেখে যায় মানুষের মনে স্বপ্ন, আশা, অনুপ্রেরণার বীজ বুনে দেয়, তাদের স্বপ্নপূরণের পাগলামি দিয়ে। তারা প্রমাণ করে যে, স্বপ্নহীন বেঁচে থাকায় কোনো কৃতিত্ব নেই বরং একে পূরণের চেষ্টায় মৃত্যু আসলেও তবে জীবন স্বার্থক।
এতোকথা বলছি তেমনি একজন মানুষের সাথে এই লেখার মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দিব বলে।
আসলে এটা একটা মুভি রিভিউ হলেও গল্পটা সত্যি, গল্পের মানুষটা সত্যি, তার স্বপ্নপূরণের কঠিন এই সাধনা সত্যি।
এ গল্পের নায়ক নিউজিল্যান্ডের স্পিড বাইক রেসার বার্ট মুনরো। মুভিটা ২০০৫ সালে নির্মিত হলেও গল্পটা ১৯০০ শতকের।

এইবার চলুন গল্পে ঢুকে যাই-

 

৬৮ বছর বয়সের বৃদ্ধ বার্ট মুনরো নিউজিল্যান্ডের ছোট্ট এক শহরে বাস করেন। একদম একার জীবন হলেও তার সময় চলে যায় সারাদিন রাত ৪৭ বছরের পুরোনো এক স্কাউট ইন্ডিয়ান মোটরবাইকের স্পীড বাড়ানোর জন্য গবেষনা করতে করতেই। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এই সাধনা করে যাচ্ছেন, কারণ তার স্বপ্ন আমেরিকার বোনেভিল স্পিডওয়েতে তার এই মোটরবাইকের ক্ষমতা পরীক্ষা করে বিশ্ব রেকর্ড গড়বেন, সকল স্পিড লিমিট ক্রস করবেন।

ইতিমধ্যেই তার এই ৪৭ বছরের পুরোনো বাইক কে এতোটাই আপডেট করে ফেলেছেন গবেষণা করে যে, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম মোটরসাইকেল হিসেবে সাড়া ফেলেছে। কিন্তু তিনি থেমে নেই, প্রতিদিন চলছে তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

বার্ট মুনরো যদিও কাজ পাগল, খুবই নির্ভেজাল, সরল, বিনয়ী মানুষ, কিন্তু প্রতিবেশীরা তার উপর মোটেই সন্তুষ্ট নয়। কারণ তিনি সেই কাক ডাকা ভোরে, আলো ফোটার আগেই ঘুম থেকে উঠে বাইক নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন, এতে এতো শব্দ হয় যে, সবার ঘুম ভেঙে যায় আর তাকে সবাই মিলে বকাঝকা শুরু করে। তবে প্রতিবেশি একটা বাচ্চা ছেলে তার বন্ধুর মত, খুব পছন্দ করে বার্টের সঙ্গ। স্কুলের সময় ছাড়া বাকিটা বার্টের সাথে থাকে, ওর পাগলামি গবেষণা দেখে আর বিভিন্ন প্রশ্ন করে যায়।
মুভির এই বাচ্চা ছেলেটাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। বার্টের মাঝে আমি বাচ্চা বাচ্চা একটা আচরণ পেয়েছি আর ছেলেটার মাঝে আমি বিজ্ঞদের মত ম্যাচিউরড আচরণ পেয়েছি। তাদের কম্বিনেশনটা দারুণ ছিল। ছেলেটার মা বাবা যদিও পাগলই ভাবত বার্ট কে, বলত এই বয়সে তার এই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার নয়। তবে ছোট ছেলেটা বিশ্বাস করত বার্ট ঠিক রেকর্ড গড়ে ফেলবে।
পুরো জীবনে তার সম্বল বলতে ছিল শুধু গ্যারেজের মতো একটামাত্র ঘর যা বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে ঠাঁসা আর ছিল সেই বাইকটা। অর্থ বলতে যা ছিল সব এই স্বপ্নের পেছনেই ঢেলেছেন। আর শেষ সম্বল ছোট্ট এই গ্যারেজ ঘরটা এক ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখে কিছু লোন নেন আমেরিকা পাড়ি জমানোর জন্য, রেকর্ড যে গড়তেই হবে তাকে।
যদিও ৬৮ বছর বয়সের বৃদ্ধ বার্ট মুনরো মনের দিক থেকে তারুণ্য ধরে রেখেছি ঠিক ১৮ বছরের মতোই, কিন্তু শরীর তো সেটা বুঝে না। আর তাই বার্ধক্যজনিত রোগ বাসা বাঁধল তার শরীরে, হঠাত হার্ট অ্যাটাক করল সে এতোকাল ধরে দেখা স্বপ্নের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে। ডাক্তার বলল, তার হার্ট আর চাপ নেয়ার মত অবস্থায় নেই। তাকে বাইক রেইস করতে নিষেধ করল, কারণ অধিক উত্তেজনা তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। বিশ্রামে থাকতে বলল, ঔষধও দিল সাময়িক উপশমের জন্য।

কিন্তু দৃঢ়প্রত্যয়ী সাহসী বার্ট তো আর দীর্ঘদিনের আত্মত্যাগ, শ্রম আর স্বপ্নকে শারীরিক অসুস্থতার কাছে পরাজিত হতে দিতে পারে না! তাই সে তার প্রস্তুতি চালিয়েই যেতে থাকল বোনেভিল স্পিডওয়েতে স্পিড রেকর্ড গড়ার জন্য।

অবশেষে বহু প্রতীক্ষার পর বার্ট মুনরোর সুযোগ আসল লস অ্যাঞ্জেলসগামী এক পণ্যবাহী জাহাজে করে স্বপ্নের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার। প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা সেরে বিদায় নিল একে একে সব প্রতিবেশীদের থেকে, আর তার ছোট্ট বন্ধুকে দায়িত্ব নিয়ে গেল তার সেই ঘর, চিকেন আর গাছ দেখাশোনা করার জন্য। প্রতিবেশীরা বার্টের উপর এতোদিন বিরক্ত থাকলেও বৃদ্ধ এই লোককে অপছন্দও করত না আসলে। এমন প্যাশনেট আর সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষকে অপছন্দ করা যায় নাকি! যদিও সবাই ধারণা করেই নিয়েছিল বার্ট স্পিট রেকর্ড ভাঙ্গতে পারবে না, কিন্তু শুভকামনা জানিয়েই তাকে বিদায় দিল সবাই।
যাওয়ার আগে স্থানীয় বাইক রেইস ক্লাবের ছেলেরাও শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি বার্টের হাতে কিছু অর্থ তুলে দিল, যা ওর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল ওই মুহূর্তে।
তারপর বার্ট মুনোরো তার সেই পুরোনো বাইক নিয়ে কাঙ্ক্ষিত জাহাজে চরে বসল আমেরিকার উদ্দেশ্যে। জাহাজে সৌভাগ্যক্রমে সে কুকের চাকরি পেয়ে গেল, রান্নাবান্না আর থালাবাসন ধোঁয়ার বিনিময়ে আরও কিছু অর্থও উপার্জন হল তার। জাহাজের আরও অল্পবয়সী ছেলেদের সাথে ভাবও হয়ে গেল তার। সবাই ওর এমন পাগলামি দেখে প্রথমে হাস্যরস করলেও পরবর্তীতে উৎসাহ আর শুভকামনাই জানাতে লাগল।
লস অ্যাঞ্জেলস পৌঁছানোর পর কাস্টমসেও চেকইনের সময় তার ভিজিটের কারণ জানতে চাইলে যখন সে বাইক স্পিডের রেকর্ড ভাঙার স্বপ্নের কথা বলল, ওর বয়স দেখে সেখানেও সবাই পাগল ভেবেই হাসল।
নিউজিল্যান্ডের ছোট্ট শহর থেকে গিয়ে আমেরিকার বিশাল শহরের আভিজাত্য দেখে সে শুধু অবাক আর মুগ্ধই হল। একটা হোটেলে প্রথম রাত কাটানোর জন্য গেল, সেখানে হোটেলে থাকা ট্রান্সজেন্ডার রিসিপশনিস্টের সাথে বেশ ভাব হয়ে গেল তার, ওর সাহায্যে নিয়েই বার্ট কাস্টমস থেকে তার বাইক আনাল, স্বল্প প্রাইসে একটা গাড়ি কিনল সল্টলেকে পৌঁছানোর সুবিধার্থে। গাড়ি যেখান থেকে কিনেছিল, সেখানে তার গাড়ির ইঞ্জিন সম্পর্কিত স্কিল দেখে তাকে চাকরির অফারও করেছিল, কিন্তু সে রেইসে যাবে বলে প্রত্যাখ্যান করল।
সেই গাড়ির পেছনে তার বিখ্যাত সেই বাইক বেঁধে রওনা হল বার্ট মুনরো সল্টলেকের সেই বোনেভিল স্পিডওয়ের উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে অনেকের সাথে তার দেখা হল, পরিচয় হল, বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠল আর সবার সাথে স্বপ্নের কথা শেয়ার করতে করতেই এই বৃদ্ধ ছুটে চলল তার স্বপ্নপূরণের উদ্দ্যেশ্যে। পথে একবার পেছনে বেঁধে রাখা সম্পদ সেই বাইকের একটা চাকা খুলে গেল, বাইক রাস্তায় ছিটকে পরল। বৃদ্ধ একাকী নির্জন রাস্তায় ভীষন বিপদে পরে গেল। একা একা বাইককে তুলে ঠিক করে আবার গাড়ির সাথে বাঁধা সম্ভব ছিল না তার জন্য, তারপরও চেষ্টা করছিল। এর মাঝে ভাগ্য ভালো আরেকটা বৃদ্ধ লোক গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল সেই পথে, সাহায্য করল তাকে বাইক তুলতে, রাতে আশ্রয়ও দিল।
এভাবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, ভালো-মন্দ সব কিছু পেছনে ফেলেই পৌঁছে গেল বার্ট তার কাঙ্ক্ষিত সেই স্বপ্নস্থলে। খুব আবেগ আপ্লুত হয়ে পরেছিল সে ওই মুহূর্তে। সেখানে পৌঁছেই আরেকজন রেসারের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেল তার। তার অদ্ভুত এই স্বপ্ন জয়ের নেশার কথা জেনে অবাক হল, সাপোর্টও করল।
কিন্তু বার্ট জানতে পারল যে, রেইসের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হয়, যা সে করেনি। তাই রেইসের অনুমতি মিলবে না তার। বার্ট জানাল, সে পৃথিবীর আরেক প্রান্ত থেকে এসেছে, ২০ বছরের বেশি সময় ধরে করা চেষ্টা, শ্রম আর আত্মত্যাগ এর পেছনে রয়েছে। এখন এই জায়গায় পৌঁছেও এই স্বপ্ন অপূর্ণ থাকবে, তা তো হতে পারে না! সে তার রেসার বন্ধুকে ডাকল তাকে রেইসের সুযোগ করে দেয়ার জন্য। সেই লোক তখন কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে বলল, এই পাগল লোকের স্বপ্নের কথা। তারা রাজি হল এবং বার্টের বাইক দেখতে চাইল।
৪৭ বছরের পুরোনো বার্টের অদ্ভুত এই বাইক দেখে সবাই খুবই অবাক হল। হাসাহাসি করল, কারণ এমন একটা পুরোনো বাইক, ধরলেই ভেঙে পরার অবস্থা এমন, এটা দিয়ে এই বৃদ্ধ লোক আবার রেকর্ড করতে চায়!! পরীক্ষামূলক একটা রেইস বার্ট করল সেখানে, এর স্পিড দেখে এইবার সত্যিই অবাক হল সবাই। কিন্তু এতে কোনো ব্রেক নেই, একদম অনিরাপদ তাই আবারও এ নিয়ে রেইস করা যাবে না জানিয়ে দিল তাকে। কিন্তু সে তো এখানে এসে হেরে যাওয়ার লোক নয়। বাইকের প্রয়োজনীয় কিছু ত্রুটি সারিয়ে নিল সে কয়েকজনের সাহায্যে। আর ওর বন্ধু রেসারের সাহায্যে আবারও অনুমতি আদায় করে নিল রেইসের জন্য।
বার্ট মুনরো আসলে এতো স্বপ্নবাজ আর প্যাশনেট একটা মানুষ, এতো হাসিখুশি আর অমায়িক যে, তাকে সবাই সাহায্য না করে পারল না। মুগ্ধ হল তার পুরোনো বাইক কে মোডিফাই করে স্পিড বাড়িয়ে তোলার এই স্কিল দেখে, তাই খুব দ্রুত তার অসংখ্য সাপোর্টার, শোভাকাঙ্খী জুটে গেল অচেনা সেই জায়গায়। বাইকটাকে সে সম্পূর্ণ নিজে আপডেট করেছে, খুব সাধারণ সব জিনিস দিয়ে, যা দেখে সবাই খুব মজা পেল।
অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেই রেইসের দিন বার্টকে তার সেখানের বন্ধুরা সব রেডি হতে সাহায্য করছিল। রেইসিং এর কর্তৃপক্ষ যখন তার বাইক চেক করল আবার, দেখল সেটায় সেইফটির জন্য প্রায় কিছুই নেই, যে কোন দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। বার্ট নিরাপত্তার জন্য রেইসের উপযোগী কোনো পোশাকও পরতে পারত না, কারণ তার এই পুরোনো বাইক এতোটা ওয়েট নিতে পারবে না। আবার বাইকের গতি বৃদ্ধির সাথে সাথে এর ভেতরের পাইপ এতো বেশি মাত্রায় উত্তপ্ত হবে যে এতে পা পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই পায়ে অন্তত সেইফটির জন্য কিছু পরার দরকার বলে তাকে মোটা কাপড়ের মোজা পরতে দেয়া হয়। সেটা পরেও সে বাইকে পা রাখতে পারেনা জায়গা স্বল্পতার কারণে, আর তাই সেগুলোও খুলে ফেলে।
এভাবেই সম্পূর্ণ অনিরাপদভাবে সে বাইক নিয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন এক রেকর্ড গড়ার উদ্দ্যেশ্যে। সবাই ওকে নিয়ে ভীষনই চিন্তায় থাকে, কিন্তু খুব করে চায় তরুনমনা এই বৃদ্ধ বার্টের স্বপ্ন পূরণ হোক। খুবই এক্সাইটেড থাকে সবাই। বার্ট বাইক নিয়ে একের পর এক স্পিড লিমিট ক্রস করতে থাকে আর উল্লাসে ফেটে পরে সবাই।

আর সবশেষে ঘণ্টায় ২০১.৮৫১ মাইল বেগে ছুটে চলে বার্টের পুরোনো এই স্কাউট ইন্ডিয়ান বাইক আর এটাই সর্বোচ্চ স্পিড লিমিট হিসেবে বিশ্বরেকর্ড করে!

একে তো বার্ট বাইকটাকে নিজে মোডিফাই করেছে একেবারেই তার মত করে, আর ১০০০ সিসির কম কোনো ইঞ্জিনযুক্ত বাইকের এতোটা স্পিড প্রায় অলৌকিক ঘটনার মতোই ছিল সবার কাছে! বার্ট সেই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পেরেছিল সারাজীবনের সবকিছু সেক্রিফাইসের বিনিময়ে!
বার্টের রেইস শেষ হয়েছিল বাইক সহ উলটে পরে, কারণ তার কোন ব্রেক ছিল না আস্তে ধীরে সেটাকে থামিয়ে রেইস শেষ করার মত। পরে গিয়ে যাস্ট হাসছিল পাগলের মত লোকটা, পা থেকে প্যান্ট উপরে তুলে দেখল পা খুব বাজে ভাবে পুড়ে গিয়েছে, সেটার যন্ত্রনা তার ফেইসে ছিল না। পরম আত্মতৃপ্তি নিয়ে, স্বপ্ন ছোঁয়ার আনন্দ নিয়ে সে শুধু হেসেই যাচ্ছিল!!
বৃদ্ধ এই স্বপ্নজয়ী লোকটা ইতিহাস সৃষ্টি করে নায়কের বেশেই ফিরে গিয়েছিলেন নিজ দেশ নিউজিল্যান্ডে। সেটাই শেষ ছিল না, এরপর আরও কয়েকবার সে গিয়েছিল আমেরিকার বোনিভেলে আর গড়েছে নতুন সব রেকর্ড। আজও ১০০০ সিসির কম বাইক নিয়ে তার রেকর্ড কেউ ভাঙ্গতে পারেনি।
বার্ট মুনোরো আসলে এটাই প্রমাণ করেছে যে, স্বপ্ন ধরে রাখতে জানলে বয়স কোনো বাঁধাই না। তীব্র প্যাশনের জোরেই মানুষ পারে যে কোনো অসাধ্য সাধন করতে।
যে ব্যাপারটা পুরো রিভিউ এ উল্লেখ করিনি সেটা হল, এই বুড়োর বান্ধবীদের কথা। বুড়ো যেখানেই গিয়েছে তার বান্ধবী জুটিয়ে ফেলেছে! 😃
আমেরিকার কালচার নিয়ে বেশ ভালো একটা ধারণা পেলাম বার্ট আর তার বান্ধবীদের দেখে। সবাই বৃদ্ধ বয়সেও মনের দিক থেকে তরুণ, একাকী জীবন, পরনির্ভরশীল নয়, কাজ করে খেটে খেতে ভালোবাসে। এই ব্যাপারটা ভালো লাগল।
আর বৃদ্ধ বার্ট আমাকে মুগ্ধ করেছে তার অসম্ভব ভালো ব্যবহার দিয়ে। সে যেখানেই গিয়েছে সবার ভালোবাসা পেয়েছে তার অসাধারণ ব্যক্তিত্বপূর্ণ ব্যবহার দিয়ে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, যত বাজে অবস্থারই শিকার হতে হোক না কেন সব সময় তার মুখে হাসি ছিল। হাসতে হাসতে সব বিপদ মোকাবিলা করতে জানত সে। সব মিলিয়ে অসাধারন একজন মানুষ এই বার্ট মুনরো।
তার একটা উক্তি দিয়েই লেখাটা শেষ করছি-

“Dream big even if it makes you afraid or scared.”


Spread the love
খাতুনে জান্নাত আশা
This is Khatun-A-Jannat Asha from Mymensingh, Bangladesh. I am entrepreneur and also a media activist. This is my personal blog website. I am an curious woman who always seek for new knowledge & love to spread it through the writing. That’s why I’ve started this blog. I’ll write here sharing about the knowledge I’ve gained in my life. And main focus of my writing is about E-commerce, Business, Education, Research, Literature, My country & its tradition.
https://khjasha.com

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: