You are here
Home > Movie Review > The Pursuit of Happyness- A Real Tale of A Homeless single Father

The Pursuit of Happyness- A Real Tale of A Homeless single Father

the-pursuit-of-happyness
Spread the love

The Pursuit of Happyness (মুভি রিভিউ)

 

 

২০০৬ সালে নির্মিত এই মুভিটি একটি অটো বায়োগ্রাফি, যার আসল নায়ক ক্রিস্টোফার গার্ডনার। মুভিতে এই রিয়েল হিরোর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমার পছন্দের একজন অভিনেতা উইল স্মিথ।

 

মুভির প্লটটি ক্রিস্টোফার গার্ডনার নামক ব্যক্তিটির জীবনের সবচেয়ে বাজে সময় থেকে নেয়া হয়েছে, যার সময়কাল ছিল ১৯৮১ সাল। এটি আমার মতে, হলিউডের অন্যতম মোটিভেশনাল এবং ইন্সপাইরেশনাল মুভির একটি।

 

আচ্ছা, আমরা তো সিঙ্গেল মাদারের স্ট্রাগলের গল্প অনেক শুনেছি, দেখেছি, সেটা হোক বাস্তব জীবনে, কোনো বই এর পাতায় বা মুভিতে। কিন্তু সিঙ্গেল ফাদারের স্ট্রাগলের গল্প প্রায় শুনিনি বলা যায়, ঠিক এ কারণেই এই গল্পটা আলাদা। তবে চলুন গল্পের ভেতর থেকে ঘুরে আসা যাক!

 

ক্রিস গার্ডনার ১৯৮১ সালে তার জীবনের প্রায় সব সঞ্চয় ইনভেস্ট করেছিলেন “bone-density scanners” এর জন্য, যা ছিল সাধারণ এক্সরে মেশিনের চেয়ে অনেক উন্নত। তাই এর মাঝে তিনি বেশ সম্ভাবনা দেখেছিলেন। প্রথমদিকে বেশ ভালোই চলছিল তার এই ব্যবসা। কিন্তু দেশের ইকোনমিক কন্ডিশন খারাপ হয়ে যাওয়ায় ডাক্তার আর ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কাছে এই মেশিনের দাম তুলনামূলক বেশি মনে হতে লাগল, তাই তারা এই মেশিন কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে লাগলেন, যা ক্রিসের জীবনে আসল যুদ্ধের সূচনা ঘটাল। এতোই সূচনীয় অবস্থা হল যে, সে বাড়ি ভাড়া পে করতে পারছিল না, ফ্যামিলির দৈনন্দিন খরচ বহন করতে পারছিল না। তার স্ত্রী লিন্ডা দুই জায়গায় জব করত পরিবারকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য, তাদের একমাত্র ছেলের বয়স তখন মাত্র ৫ বছর। তাকে ডে কেয়ার সেন্টারে রেখে কাজ করত তারা।

 

এদিকে ক্রিসের অবস্থা দিন দিন খারাপ থেকে খারাপ হতে লাগল, সে তার স্ক্যানার নিয়ে সারাদিন ঘুরত কেউ কিন্ত না। উপার্জনের অল্টারনেটিভ ওয়েও খুঁজতে লাগল, কিন্তু প্রতিদিন রাতে হতাশ হয়েই ফিরে আসতে হত বাসায় তাকে। এতটা স্ট্রাগল আর মেনে নিতে পারছিল না স্ত্রী লিন্ডা, তাই সে ক্রিসকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু ক্রিস তাদের ছেলেকে রেখে দিল নিজের কাছেই। সিঙ্গেল ফাদার হিসেবে নতুনভাবে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং লাইফ শুরু হল তার। সে তখন একেবারেই নিঃস্ব আর অসহায়।

 

একদিন স্ক্যানার সেল করার চেষ্টা করছিল সময় তার সাথে দেখা হয়ে যায় একটা ব্রোকারেজ হাউজের ম্যানেজার জয় টুইস্টেলের সাথে এবং তাকে ইম্প্রেস করে ফেলে রুবিক্স কিউব মেলাতে পেরে। কিন্তু সেদিন ট্যাক্সি ভাড়ার টাকা না থাকায় সে যখন দৌড়ে পালাতে চায়, তখন তার একটা স্ক্যানার হারাতে হয়। এটা তখন ওই পরিস্থিতিতে তার জন্য বিশাল ক্ষতি, খুব আপসেট হয়ে যায় সে। এর পরদিনই কারে পুলিশ এরেস্ট করে পার্কিং টিকিট পে করতে না পারায়। জয় টুইস্টেলের সাথে পরিচয়ের সুবাদে সেই ব্রোকারেজ কোম্পানিতে ওকে ইন্টার্ণ হিসেবে জয়েনের জন্য ইন্টারভিউ দিতে কল করে। পুলিশ কাস্টডি থেকে তাই কোনো রকমে ইন্টারভিউ এর আগে ছাড়া পেয়ে একেবারেই ইনফরমাল পোশাকে, অগোছালো অবস্থায় ইন্টারভিউ বোর্ডে যেয়ে হাজির হয় সে।

 

তার পরনে শার্টও ছিল না, যে জ্যাকেট পরা ছিল সেটারও চেইন নষ্ট ছিল, পুলিশ এরেস্টের আগে বাসায় রং করছিল বলে সারা শরীরে রং এর ছোপ ছোপ দাগ ছিল। এমন অবস্থায় তাকে দেখে ইন্টারভিউ বোর্ডের সবাই অবাক হয়, সে অপ্রস্তুত থাকার পরও খুব কনফিডেন্টলি এবং সততার সাথে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে।

 

মুভির মোস্ট ইন্টারেস্টিং পার্ট এটা, খুব মজা লাগছিল দেখে। মুভির এই পার্ট্টুকুতেই শুধু একটু হাসার সুযোগ রয়েছে। আর একটা মানুষ এতটা খারাপ পরিস্থিতির মাঝেও কিভাবে সব পজিটিভ্লি হ্যান্ডেল করে তা শেখা যাবে এখান থেকে। ক্রিস ঠিক তার রিয়েল স্টোরিটাই বলে কেনো সে এমন অবস্থায় আসতে বাধ্য হয়েছে, তার প্রত্যেকটা উত্তরের মাঝে প্রবল আত্মবিশ্বাস, হার না মানার মানসিকতা এবং সততা ফুটে উঠছিল। একটা কথা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে, এটাই মে বি ইন্টারভিউয়ারদেরকেও বেশি ইম্প্রেস করেছিল।

 

সে অনেকটা এরকম একটা কথা বলেছিল যে, আমি হয়ত সব প্রশ্নের উত্তর জানিনা, কিন্তু আমি উত্তর খুঁজে বের করতে পারব বলে বিশ্বাস করি এবং এর জন্য চেষ্টা করি।

 

তাকে এখানে ২০ জন ইন্টার্ণের একজন হিসেবে সেদিন সিলেক্ট করা হয়েছিল বিনাবেতনে ৬ মাসের জন্য এবং বলা হয়েছিল তার ক্লায়েন্ট কনভিন্সিং এর উপর নির্ভর করবে সে  পার্মানেন্ট এমপ্লয় হতে পারবে কিনা। সে এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছিল, একটা মিনিট সময় সে নষ্ট করে নি নিজের কাজের ক্ষেত্রে, যত ভাবে সম্ভব সম্ভাব্য ক্লায়েন্টদের সাথে মিট করা, তাদের সাথে বিনয়ী আচরণ করা, নেটওয়ার্কিং করা ইত্যাদি সব চেষ্টাই সে করছিল।

 

এদিকে যে বাড়িতে সে ছেলেকে নিয়ে থাকত সেই বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হল তাকে ইন্টার্ন হিসেবে জয়েন করার পরদিনই। ছেলেকে নিয়ে একটা মোটেলে উঠল, ক’দিন পর সেখান থেকেও বের করে দেয়া হল, কারণ বিল পে করার মত টাকা তার কাছে ছিল না। বিধ্বস্ত এক অবস্থা তার। বাচ্চা ছেলেটা বুঝতেই পারছিল না আসলে তার বাবার জীবনে কত বড় বিপর্যয় চলছে। মা কেনো চলে গেল তার তাও সে জানেনা, কেনো বাসা ছেড়ে পথে পথে ঘুরতে হচ্ছে তাও সে বুঝতে পারছে না। এক সময় কাঁদতে শুরু করে যে, বাবা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে বলে!

 

সেই মুহূর্তটায় একজন বাবা হিসেবে ক্রিসের মনের অবস্থাটা কেমন ছিল বুঝতেই পারছেন, ওর চাপা কান্না অনুভব করতে পারলে আপনি হয়ত নিজের ইমোশন কন্ট্রোল করতে পারবেন না ওই মুহূর্তে। ছেলেকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে সে কখনো স্টেশনে, কখনো বাসস্ট্যান্ডের ওয়াশরুমের ভেতরের ছোট্ট কোণে, কখনো রেস্ট্রুমে ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় রাত কাটাতে লাগল হোমল্যাস ক্রিস! এভাবেই ছুটোছুটি করে বিধ্বস্তভাবেই অফিস করত সে। কিন্তু তার এই অসহায়ত্ব কখনো কারো সাথে শেয়ার করেনি। অফিসে জয় তার অবস্থা জানতে চাইলেও সে বলেনি এই দুরাবস্থার কথা, হয়ত আত্মসম্মানবোধ আর নিজের কাজের উপর আস্থাটা তার একটু বেশিই ছিল, তাই কারো সহানুভূতি আশা করেনি সে।

 

একদিন তার হারিয়ে যাওয়া স্ক্যানারটা রাস্তায় খুঁজে পায় সে, আর সেটা এক ডাক্তারের কাছে বিক্রি করে কিছু টাকা পায়। সেটা দিয়ে ছেলেকে নিয়ে কষ্ট করেই চলতে থাকে।

 

ক্রিস ব্রোকারেজ হাউজের ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেলিং এ খুব দক্ষতার পরিচয় দেয়, সব ভাবে চেষ্টা করে তাদের কনভিন্স করার জন্য। একদিন এভাবে টপ লেভেলের পেনশন ফান্ডের একজন ম্যানেজারের বাসায় যায় ছেলেকে নিয়ে, সেই ম্যানেজার যখন শুনে ক্রিসের ছেলে ফুটবল ম্যাচ দেখতে যেতে চায়, তখন সে প্রস্তাব করে তাদের সাথে যাওয়ার জন্য। কারণ তারাও সেখানেই যাবে। সেই ম্যাচ দেখতে যেয়ে ম্যানেজারের আরও কিছু বন্ধুর সাথে নেটওয়ার্কিং গড়ে উঠে ক্রিসের, যা তাকে ক্লায়েন্ট পেতে সাহায্য করে। এভাবে ৬ মাস যাওয়ার পর ইন্টার্ন শেষ হওয়ার আগের দিন তার ডাক পরে আবার অফিসে, আর তাকে জানানো হয় পার্মানেন্ট এমপ্লয় হিসেবে তাকে বাছাই করা হয়েছে এবং তাকে ৫ ডলার টাকাও দেয়া হয়! ক্রিস কতটা ইমোশনাল ফিল করছিল সেই সময়টায় তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন! তার এতোদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পুরষ্কার মিলেছিল সেদিন, তার স্বপ্নগুলোকে পুনরায় জাগ্রত করেছিল, ছোট্ট ছেলেকে হোমল্যাস জীবন থেকে মুক্তি দিতে পেরেছিল ডে কেয়ারে দেয়ার মাধ্যমে!

 

রিয়েল ক্রিস্টোফার গার্ডনার প্রায় এক বছর এভাবে হোমল্যাস অবস্থায় ছিল। পরবর্তীতে তার জীবন ধীরে ধীরে এতোটাই পরিবর্তন হয়েছিল যে, তার নিজেরই একটা ব্রোকারেজ ফার্ম হয়েছিল, গাড়ি বাড়ি সবই হয়েছিল, সফল মিলিয়নার ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল।

 

সে পেরেছিল কারণ, তার এক ইন্টারভিউ এ সে বলেছিল,

 

“I was Homeless, but not Hopeless”

 

মুভিটা না দেখে হয়ত এর ইমোশনগুলো ফিল করা সম্ভব না। একজন হোমল্যাস সিঙ্গেল ফাদারের স্ট্রাগল জীবনের নতুন মানে খুঁজে পেতে সাহায্য করবে আপনাকে, হ্যাপিনেস বা সুখ আপনার চোখে নতুন রূপে ধরা পরবে।

 

মুভির টাইটেলের বানানে Happyness (Happiness is the correct spelling) বানান ভুল লেখার কারণটা এইবার বলি। ক্রিস ছেলেকে কোনো এক ডে কেয়ার সেন্টারে রাখতে যাওয়ার সময় সেটার বাইরে কোনো একটা পোস্টারে লেখা ছিল এই “The Pursuit of Happyness” কথাটা, অর্থাৎ “সুখের অনুসন্ধান”।

 

কিন্তু হ্যাপিনেসের এই ভুল বানান দেখে সেই সেন্টারে ছেলেকে দেয় নি সে। ক্রিসকে মে বি হ্যাপিনেসের সেই ভুল বানানই সুখের আসল সংজ্ঞা অনুধাবন করতে সাহায্য করেছিল। হ্যাপিনেস বলতে সে বুঝেছিল, প্রতিদিন জীবনের সাথে লড়াই করে যাওয়া নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে, নিজের উপর বিশ্বাস রাখা, সততা এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে সব পরিস্থিতির মোকাবিলা করা আর অবশ্যই সন্তানের কাছে সেরা বাবা হওয়া।

 

ক্রিসের ছেলেটা খুব বেশিই সাপোর্টিভ ছিল, এক সময় সে বুঝতে পেরেছিল তার বাবার অবস্থাটা, বাবাকে ভালোবেসেছিল সে। মুভিতে অসাধারণ ক্যামিস্ট্রি বাবা ছেলের এই সম্পর্কে ফুটে উঠেছে। আর এই ছেলেটা আসলে উইল স্মিথের নিজের ছেলে, তাই তাদের অভিনয়টা বেশিই রিয়েল ছিল।

 

অনেক বেশি উপলব্ধির মাঝে আলাদা করে বলা যায়,  মুভিটার মূল শিক্ষা এখানে-

 

জীবন যত দুর্বিষহই হোক না কেন, সেটাকে মোকাবিলা করে আল্টিমেট হ্যাপিনেস খুঁজে পাওয়া সম্ভব দৃঢ়চিত্তে প্রতিদিন নিজের সর্বোচ্চ ইফোর্ট দিয়ে চেষ্টা করে যাওয়ার মাধ্যমে।


Spread the love
খাতুনে জান্নাত আশা
This is Khatun-A-Jannat Asha from Mymensingh, Bangladesh. I am entrepreneur and also a media activist. This is my personal blog website. I am an curious woman who always seek for new knowledge & love to spread it through the writing. That’s why I’ve started this blog. I’ll write here sharing about the knowledge I’ve gained in my life. And main focus of my writing is about E-commerce, Business, Education, Research, Literature, My country & its tradition.
https://khjasha.com

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: