You are here
Home > Movie Review > Hoosiers – Movie Review (মুভি রিভিউ)

Hoosiers – Movie Review (মুভি রিভিউ)

Hoosiers - Movie Review (মুভি রিভিউ)
Spread the love

Hoosiers Movie Review

 

 

Hoosiers মুভিটি আমেরিকার একটি সত্য গল্পের উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। কিভাবে ছোট শহর মিলান ইন্ডিয়ান্স 1954 ইন্ডিয়ানা স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল, সেই প্লট থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই তৈরী এটা। এটাও একটি বাস্কেটবল স্পোর্টস মুভি। তবে খেলার বাইরে গিয়ে দেখলে এই মুভির গল্প থেকে উপলব্ধি করার আছে অনেক কিছু। ছোট্ট করে গল্পটার সামারি করে তারপর আমার উপলব্ধিটুকু শেয়ার করব।

 

প্রথমে বলে নেই, স্পোর্টস মুভিগুলোর কমন বৈশিষ্ট্য হল- বিধ্বস্ত একটা টিম থাকবে, একজন দক্ষ কোচের সংস্পর্শে এটাই এক সময় সেরা হয়ে উঠবে। এ ধরণের প্রত্যেকটা মুভি থেকেই তাই টিম এবং দক্ষ কোচের গুরুত্ব বুঝতে পারা যায় খুব ভালোভাবেই। এই মুভির ক্ষেত্রেও তাই এই ব্যাপারটা কমন।

 

** এই গল্পের শুরুটা হয়েছিল 1951 সালের শরৎকালে।

 

ইন্ডিয়ানার ছোট শহর হিকোরিতে আগমন ঘটে কোচ নরম্যান ডেল এর। এই শহরেরই স্থানীয় স্কুল প্রধান কোচ নরম্যান ডেলের বন্ধু, যিনি স্কুলের ইতিহাস বিষয়ের শিক্ষক এবং বাস্কেটবল টিমের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন নরম্যানকে।

 

যদিও স্কুল্প্রধান খুব খুশি ছিলেন বন্ধুকে পেয়ে এবং ভরসা করেছিলেন বাস্কেটবল কোচ হিসেবে নরম্যান ভালো করবেন।  কিন্তু তার আগমন স্কুলের সবাইকে যে খুব বেশি খুশি করতে পারে নি, এটা বেশ বোঝা যাচ্ছিল তার গতিবিধি আর অন্যদের আচরণ পর্যবেক্ষন করে। এসেই বেশ কয়েকজনের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পরেছিলেন কোচ এবং স্কুলের ৭ জন খেলোয়াড়ের ২জন কে বহিষ্কার করেছিলেন খেলার নিয়ম না মানার কারণে। প্লেয়ারদের প্র্যাক্টিস টাইমে তাদের অভিভাবক বা যে কোনো লোক ভীড় জমাতে পারবে না এসে, এটাও নিয়ম করেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে সবাই তার উপর শুরু থেকেই বেশ ক্ষুব্ধ ছিল।

 

ইন্ডিয়ানা শহরের মানুষগুলো আসলে বাস্কেটবল খুব ভালবাসত, কিন্তু তারা সেই সময়টায় বেশ হতাশ ছিল স্কুলের বাস্কেটবল টিমের সবচেয়ে ভালো প্লেয়ার জিমি খেলা ছেড়ে দেওয়ায়। স্কুলের আগের কোচ মারা যাওয়ার পর জিমি খুব ভেঙে পরে, তাই খেলা ছেড়ে দেয় সে। জিমি হল আবার নরম্যানের কলিগ মেয়ার ফ্লিনারের ছোট ভাই। মেয়ার চান না ভাই জিমি আবার খেলায় ফিরুক, তিনি বরং ভাই কে লেখাপড়ায় উৎসাহিত করছিলেন যেন স্কলারশীপ পেয়ে ইন্ডিয়ানার বাইরে গিয়ে ভালো কোথাও স্টাডির সুযোগ পায়।

 

কিন্তু কোচ নরম্যান জিমিকে খেলায় ফিরিয়ে আনতে চাইছিলেন। তাই জিমির সাথে কথা বলেন তিনি। মেয়ার দূর থেকে এটা দেখে খুব বিরক্ত হয় নরম্যানের প্রতি এবং তাকে এরজন্য পরবর্তীতে তিরষ্কার করে বিভিন্ন কিছু বলে। বাস্কেটবল খেলার মাধ্যমেও জিম স্ক্লারশীপ পেতে পারে নরম্যান এটা বোঝানোর চেষ্টা করলেও মেয়ার তার কথা আমলে নেন না।

 

সব মিলিয়ে নরম্যান শুরুতে মাত্র ৫জন প্লেয়ার নিয়েই কঠোর প্র্যাক্টিসের যাত্রা শুরু করেছিলেন, পরবর্তীতে বহিষ্কৃত প্লেয়ার ২জনও ফিরে এসেছিল।

 

কোচ নরম্যান নিয়ম মানার ব্যাপারে বেশ কড়া ছিলেন। তার শেখানো নিয়ম যথাযথ ভাবে মেনে না খেললে সেটার জন্য তিনি শাস্তি দিতেন। এমনি একটা খেলায় নিয়ম ভঙ্গ করে খেলার কারণে তিনি একজন প্লেয়ারকে সেই ম্যাচে আর খেলার সুযোগ দেন নি। অন্য প্লেয়ার ফাউল করে মাঠ ছাড়ার পরও তিনি সেই প্লেয়ারকে অল্টারনেটিভ হিসেবে খেলতে না দিয়ে বসিয়ে রেখেছিলেন। সেই খেলায় তার মাত্র ৪জন প্লেয়ার খেলেছিল। তার এসব স্ট্রিক আচরণ কেউ পছন্দ করতে পারত না, বার বার ক্ষুব্ধ হত সবাই।

 

এর মাঝে হঠাৎ এক খেলার সময় নরম্যানের বন্ধু স্কুল প্রধান খুব অসুস্থ হয়ে পরেন। এই সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয় মেয়ারকে। মেয়ার তখন জানতে পারেন কোচ নরম্যানের অতীত তিক্ত ইতিহাস। বারো বছর আগে, অন্য একটি কলেজের কোচ হিসাবে দায়িতে পালনকালে নরম্যান তার একজন খেলোয়াড়কে ঘুষি মেরেছিলেন এবং সেটার শাস্তি স্বরূপ এনসিএএ  আজীবনের জন্য কোচ হিসেবে তার দায়্যিত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এরপর তিনি সামরিক বাহিনীতে চলে গিয়েছিলেন। সেই ঘটনাও চাপা পরেছিল।

 

এতো বছর পর আবারও কোচের দায়িত্ব পালন করতে আসার পরও বাঁধা তার পিছু ছাড়ছিল না। নরম্যানের প্রতি ক্ষুব্ধ শহরবাসী সবাই একটা মিটিং এরেঞ্জ করে যে, নরম্যানকে কি কোচ হিসেবে রাখবে নাকি বাদ দিয়ে দিবে। এর পক্ষে বিপক্ষে মতামত চায় সবার কাছে। মেয়ার তখন নরম্যানের অতীত ইতিহাস জানার পরও সেটা প্রকাশ না করে নরম্যানের পক্ষে সাপোর্ট করে। কিন্তু তারপরও শহরবাসী বাদ দিতে চায় নরম্যানকে। ঠিক তখনই মিটিং এ প্রবেশ করে, মেয়ারের ভাই এবং শহরের সেরা বাস্কেটবল প্লেয়ার জিমি। জিমি তখন বলে, সে বাস্কেটবল খেলায় ফিরে আসবে, যদি নরম্যানকে কোচ হিসেবে রাখা হয়। তখন সবাই জিমিকে ফিরে পাওয়ার খুশিতে এক বাক্যে নরম্যানকে কোচ হিসেবে মেনে নেয়।

 

নরম্যানের জন্য, এটি দ্বিতীয় এবং সম্ভবত শেষ সুযোগ ছিল নিজেকে প্রমাণ করার।

 

আর স্কুলের প্রধান কিন্তু বাস্কেটবল খেলায় সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করতেন। তার হঠাৎ অসুস্থতায় সহকারী কোচের অভাব দেখা দেয়। নরম্যান তখন তার টিমেরই এক প্লেয়ারের বাবা, শুটারকে সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়ে আসেন। শুটার বাস্কেটবল সম্পর্কে অনেক ভালো জানতেন, কিন্তু তিনি ছিলেন পুরো নেশাগ্রস্ত মাতাল একটা মানুষ। মাতাল হয়ে সব সময় বিভিন্ন এলোমেলো কাজ করার ফলে তার ছেলে খুব হীনমন্যতায় ভুগত বাবাকে নিয়ে। বাবা ছেলের সম্পর্ক একদম ভালো ছিল না তাই। নরম্যান এমন মাতাল একজন মানুষকে সহকারী কোচের দায়িত্ব দিয়েও অনেক ক্টু কথা শুনেছিলেন। কিন্তু এর পেছনে নরম্যানের বেশ ভালো কয়েকটি উদ্দেশ্য ছিল।

 

 

প্রথমত নরম্যান চেয়েছিলেন শুটারের সাথে তার ছেলের সম্পর্কের উন্নতি করতে। যে বাবাকে নিয়ে ছেলে সব সময় লজ্জিত হয়, তার ভালো রূপটা নরম্যান খেলার মাঠে বের করে আনতে চেয়েছিলেন, যা মাঠে ছেলেকেও ভালো খেলতে উৎসাহিত করবে, স্পিরিট হিসেবে কাজ করবে। নরম্যান তাই ইচ্ছে করে মাঠ থেকে বের হয়ে যেতেন কোচ হিসেবে খেলার দায়িত্ব পালনে শুটারকে রেখে। শুটার প্রথমে অসুস্থ বোধ করত, কোনো ভাবেই স্বাভাবিক হতে পারত না, কিন্তু এক খেলায় যখন দেখল কোচের নির্দেশনার অভাবে ওদের টিম হারতে চলেছে, তখন সে তাদের ত্রাতা হয়ে উঠে দাঁড়ায়, নিজের বাস্কেটবল সম্পর্কিত স্কিলের সত্যিকারের প্রয়োগ ঘটায় টিমকে সঠিক নির্দেশনা এবং টিম সেদিন সত্যিই জিতে যায়। তার ছেলেও ভীষন খুশি হয়, বাবার প্রতি তার শ্রদ্ধা ভালোবাসা বেড়ে যায়।

 

তবে পরের একটা খেলায় শুটার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় খেলার মাঠে ঢুকে পড়ে খুব বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল তার ছেলে এবং কোচ নরম্যানের জন্য। কিন্তু নরম্যান তখন শুটারের ছেলেকে বারবার বলছিল অন্য দিকে দৃষ্টি না দিয়ে খেলায় ফোকাস করতে। সেই খেলায় অনেক ফাউলও করা হয় তাদের টিমের বিরুদ্ধে, বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয় সব মিলিয়ে। আর শুটার খুব অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

 

এরপরই চলে আসে তাদের ইন্ডিয়ানা চ্যাম্পিয়নশীপ খেলা। বিশাল গ্যালারিতে ফাইনাল ম্যাচ হবে, এই নিয়ে প্লেয়াররা খুব ভয়ে ভয়ে থাকে, কনফিডেন্টের অভাব দেখা যায় তাদের মাঝে। কোচ নরম্যান তখন তাদেরকে আস্বস্ত করার জন্য সেই মাঠে নিয়ে যায়, ফিতা দিয়ে মাঠ মেপে দেখায় যে স্কুলের মাঠের সাথে আয়তনে এর কোনো পার্থক্য নেই। গ্যালারিটাই যা বিশাল এবং এতে দর্শকরা বসবে তাদেরকে উৎসাহ দেয়ার জন্যই। নরম্যান খুব ইমোশনালি কানেক্ট হয়ে যায় প্লেয়ারদের সাথে, অনেক কেয়ার করে এটা তার আচরণেই বোঝা যায়। সে প্লেয়ারদের বলে যে, সে সবাইকে খুব ভালোবাসে। তারা যদি খেলায় হেরেও যায় তবুও তাদের নিয়ে গর্বিত হবে সে। প্লেয়ারদেরকে যাস্ট নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলে যেতে বলে।

 

ফাইনালের প্রথম রাউন্ডে তারা একদম ভালো খেলতে পারছিল না, কিন্তু কোচের উৎসাহ নির্দেশনায় তাদের সেরা খেলাটা দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বেরিয়ে আসে। জিমি অসাধারণ পারফর্মেন্স করে, তারা প্রত্যেকে একটা টিম হিসেবে দারুণ পারফর্ম করে, টিমের সবচেয়ে শর্ট প্লেয়ার যে তার উচ্চতার জন্য হীনমন্যতায় ভুগত সব সময় তার হাত ধরেই শেষ জয়টা আসে এবং ছোট্ট শহরের স্কুলের প্লেয়াররা স্টেট চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে আশ্চর্য এক ইতিহাস সৃষ্টি করে।

 

উপলব্ধি

 

** পুরো গল্পটার নায়ক আসলে কোচ নরম্যান, তার ব্যক্তিত্বের মধ্য দিয়েই গল্পটির বিশেষত্ব ফুটে উঠেছে। অন্যান্য স্পোর্টস মুভির সাথে এর মুল পার্থক্য হল, এখানে কোচের দক্ষতার চেয়েও মানবিকতা, ইমোশন এবং প্লেয়ারদের প্রতি কেয়ারিং বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। কোচ ইমোশনালি কানেক্ট থাকতে চেয়েছে, প্রত্যেকটা প্লেয়ারের সব সমস্যা খুঁজে বের করে তার সমাধান করতে চেয়েছে, প্লেয়ার রা তার কাছে কতটা মূল্যবান সেই অনুভূতি প্রকাশ করেছে। এতে তার সাথে প্লেয়ারদের একটা বিশেষ সম্পর্ক তৈরী হয়েছে। একজন প্লেয়ার যখন বলছিল , I’ll win for coach. এই ছোট্ট লাইনটা খুব ভালো লাগা দিয়েছিল আমাকে, আমার কাছে মনে হয়েছিল এটাই তো কোচের স্বার্থকতা। কোচ অবশেষে নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছিল, তার অতীতের তিক্ত ইতিহাস মুছে দিতে পেরেছিল।

 

** আরেকটা মূল্যবান মেসেজ এই মুভি দিয়েছে, সেটা হল কোচকে সবার উপরে প্রায়োরিটি দিতে হবে, কোচের কথাকে শেষ কথা বলে মানতে হবে। অন্তত খেলার ব্যাপারে কোচ ছাড়া পরিবারের সদস্য বা কোনো শোভাকাঙ্খী বেশি প্রাধান্য পাবে না। কারণ অবশ্যই খেলা সম্পর্কে কোচই সবার থেকে বেশি জানে, বেশি অভিজ্ঞ এটা মানতেই হবে।

 

** আর ডেফিনিটলি এই মুভির কোচের সাথেও আমি আমাদের স্যারকে রিলেট করেছি। স্যার আমাদের কোচ হিসেবেই গাইড করে চলেছেন। নিজেদেরকে সেরা হিসেবে দেখতে চাইলে তাই স্যারের প্রতিটি গাইডেন্সকেই শেষকথা বলে জানতে হবে, দ্বিতীয় কোনো চিন্তা করা যাবে না। বুঝতে হবে, তিনি যা বলছেন অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন , আমাদের ভালোর জন্য বলছেন। এই বিশ্বাস রেখে সবকিছু ফলো করে গেলে, কাজে ফোকাস করলে সাফল্য অবশ্যই আসবে এবং এমন গৌরবের ইতিহাস রচিত হবে।


Spread the love
খাতুনে জান্নাত আশা
This is Khatun-A-Jannat Asha from Mymensingh, Bangladesh. I am entrepreneur and also a media activist. This is my personal blog website. I am an curious woman who always seek for new knowledge & love to spread it through the writing. That’s why I’ve started this blog. I’ll write here sharing about the knowledge I’ve gained in my life. And main focus of my writing is about E-commerce, Business, Education, Research, Literature, My country & its tradition.
https://khjasha.com

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: