You are here
Home > Blog > বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং(University Ranking) এবং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা

বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং(University Ranking) এবং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা

university ranking bangladesh
Spread the love

 

** এডুকেশন সেক্টরে রিসার্চের উপর গুরুত্বারোপ করা জরুরী **

 

QS University Ranking 2021 অনুসারে-

 
** টপ ১০০০ এর মাঝে বাংলাদেশের “ঢাকা ইউনিভার্সিটি” আর “বুয়েট” ছাড়া কোনো ইউনিভার্সিটি নেই। তার উপর এই দুইটাই সিরিয়ালে ৮০০ এর পরে।
 
** আর এশিয়ার টপ ৬০০ ইউনিভার্সিটির মাঝে বাংলাদেশের ১০টা মাত্র ইউনিভার্সিটি রয়েছে, যার মধ্যে ৩টা মাত্র পাবলিক ইউনিভার্সিটি (ঢাকা ইউনিভার্সিটি, বুয়েট, কুয়েট) আর বাকিগুলো সব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি!!
কেনো গ্লোবাল রেঙ্কিং এ পিছিয়ে আছি আমরা!!
 

 

এই QS অর্গানাইজেশন নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে রেঙ্কিং করে থাকে।

 
যেমনঃ
 

 

** একাডেমিক রেপুটেশন(৩০%)ঃ

 
বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটিগুলো বিভিন্ন নেগেটিভ ইস্যুর কারণে এদিক থেকে অনেক বেশি পিছিয়ে আছে।
প্ল্যাগারাইজড রিসার্চ পেপার, ফেইক পিএইচডি ডিগ্রী, দুর্নীতি, পলিটিকাল ইনস্ট্যাবিলিটি ইত্যাদি অনেক কারণে প্রায়ই নেগেটিভ ইস্যুর জন্যই পেপারে এদের বেশি দেখতে পাওয়া যায়!!
 

 

** ডিগ্রী নিয়ে বের হওয়া গ্রেজুয়েটদের জবে যোগদান(২০%)ঃ

 
মানে কোন ভার্সিটি থেকে গ্রেজুয়েট করার পর কত ভাগ স্টুডেন্ট চাকরিতে জয়েন করতে পারছে, এটার উপরও ভার্সিটির র্যাঙ্কিং করা হয়।
 
কিন্তু যে পরিমাণ গ্রেজুয়েট প্রতি বছর বের হচ্ছে সেই অনুযায়ী চাকরির সুযোগ কি পরিমাণ আছে এটা আমরা সবাই জানি। বেশির ভাগ গ্রেজুয়েটরা তাই বেকারত্ব সমস্যায়ই ভুগছে।
 
তবে আসল সমস্যা হচ্ছে, স্টুডেন্টরা শুধু সার্টিফিকেট নিয়ে বের হচ্ছে, চাকরির জন্য যে কমিউনিকেশন আর টেকনোলজিকাল স্কিল দরকার তা নিয়ে বের হচ্ছে না৷ কারণ ভার্সিটিগুলো শিক্ষার্থীদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের উপর মোটেও জোর দিচ্ছে না।
 
্যাঙ্কিং এ পাবলিক ভার্সিটিগুলোর চেয়ে প্রাইভেট ভার্সিটিগুলোর এগিয়ে থাকার কারণ এটাই যে, প্রাইভেট ভার্সিটিগুলো আর যাই হোক শিক্ষার্থীদের স্কিল ডেভেলপ করার প্রতি শতভাগ জোর দেয়।

 

** ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত(১০%)ঃ

 
এদিক দিয়েও আমাদের দেশের ইউনিভার্সিটিগুলো অনেক পিছিয়ে। ছাত্রের সংখ্যার তুলনায় শিক্ষকদের সংখ্যা অনেক কম। অনেক ইউনিভার্সিটি আছে একটা পুরো ডিপার্টমেন্ট চালায় মাত্র ২-৩ জন শিক্ষক দিয়ে।
 

 

** ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ নেটওয়ার্ক(১০%)ঃ

 
বিশ্বের অন্যান্য দেশের ইউনিভার্সিটির সাথে সম্মিলিতভাবে আমাদের দেশের ইউনিভার্সিটিগুলো কতগুলো রিসার্চ করেছে এটার উপরও র্যাঙ্ক নির্ভর করে।
 
ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ নেটওয়ার্ক রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের টিচার্স স্টুডেন্টরা সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন রিসার্চ প্রজেক্ট করে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের ইউনিভার্সিটিগুলোর অথরিটি এ ধরনের কোলাবোরেটিভ রিসার্চ এর ব্যাপারে খুবই উদাসীন।

 

 

** প্রতি রিসার্চ পেপারের Citation এর সংখ্যা(১০%)ঃ

 
সাইটেশন হলো একটা রিসার্চ করতে গিয়ে সেকেন্ডারি ডাটা কালেকশনের জন্য কোন কোন রিসার্চ পেপার থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে সেগুলোর রেফারেন্স। এই রেফারেন্স বা সাইটেশনের সংখ্যার উপরও র্যাঙ্ক নির্ভর করে।
 
আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলোতে যে সব শিক্ষকরা রিসার্চ করে থাকেন, তাদের তথ্যগুলো ভার্সিটির ওয়েবসাইটে থাকে না, তাদের রিসার্চ পেপারগুলো কি পরিমাণ Citation পেল এসব খবর রাখা হয় না, তাই পিছিয়েই থাকতে হয়!
 

 

** শিক্ষক প্রতি রিসার্চ পেপারের সংখ্যা(৫%)ঃ

 
রিসার্চ যদিও কম হচ্ছে তারপরও হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষক যারা রিসার্চ করছেন, তাদের রিসার্চ পেপারগুলো কোনো ভালো মানের জার্নালে পাবলিশ হচ্ছে না। তাই সেগুলো বিবেচনায় আসছে না।
ভার্সিটির ওয়েবসাইটগুলোতে টিচারদের রিসার্চ সম্পর্কিত ডিটেইলস তথ্য আপডেট থাকা উচিত, জার্নালে পাবলিশ রিসার্চ পেপারগুলোর লিঙ্ক আপডেট করা সহ।
 

 

** ভার্সিটির অথরিটিতে পিএইচডি হোল্ডারদের সংখ্যাঃ(৫%)

 
এদিক থেকে আমাদের দেশ অনেক বেশি পিছিয়ে! কারণ পিএইচডি ডিগ্রী রিকুয়ারমেন্টস হিসেবে চাওয়া হয় না বললেই চলে। ভার্সিটির লেকচারার নিয়োগের ক্ষেত্রেও শুধু অনার্স মাস্টার্স লেভেলের রেজাল্ট রিকুয়ারমেন্টস হিসেবে দেয়া হয়। এজন্যই পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের দিকে আগ্রহ কম থাকে, তাই স্টাফ সংখ্যায়ও পিএইচডি হোল্ডার কম।

 

** ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট টিচার অনুপাত(৫%) এবং শিক্ষার্থী বিনিময়(৫%)ঃ

 
আমাদের দেশের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিগুলোতে ফরেন টিচার স্টুডেন্ট এর সংখ্যা খুবই নগন্য। হাতে গোনা কয়েকটা ইউনিভার্সিটিতে ফরেন স্টুডেন্ট ভর্তি হয়। আর ফরেন টিচারদেরও বেশির ভাগ প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোতে নিয়োগ দেয়া হলেও পাবলিকে ফরেন টিচার প্রায় নেই বললেই চলে।
 
আর বর্তমানে কিছু প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি কাজ করছে রেগুলার কো-এডুকেশনাল প্রোগ্রাম নিয়ে, যার মাধ্যমে আমাদের দেশের ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট খুব সহজে দেশের বাইরের একটা ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে পড়তে পারবে সেইম প্রোগ্রামে।
 
 
উপরে উল্লেখিত এই ক্রাইটেরিয়াগুলোর উপর কিন্তু বর্তমানে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো খুব জোর দিচ্ছে, তাই তারা এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পাবলিক ইউনিভার্সিটি অথরিটির এখনো অনেকটা গা ছাড়া ভাব থাকায়, টেকনোলোজির দিক থেকে নিজেদের আপডেট না করায়, ওয়েবসাইটগুলোকে সমৃদ্ধ না করায়, স্টুডেন্টদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ না করায় অনেক পিছিয়ে যাচ্ছে!!!
 
আশা করছি খুব শীঘ্রই এই অবস্থার পরিবর্তন হবে, আর এগিয়ে যাবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। 😊
 
সবচেয়ে বড় কথা অথরিটি পরিবর্তন হোক না হোক, আমাদের উচিত নিজেদের উন্নতির কথা চিন্তা করা।
 

 

নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে-

 

গ্রেজুয়েট কি নামমাত্র হলাম, নাকি কিছু স্কিলও ডেভেলপ করেছি, যা আমাকে দেশের জন্য মূল্যবান রিসোর্স এ পরিণত করতে পারে!!


Spread the love
খাতুনে জান্নাত আশা
This is Khatun-A-Jannat Asha from Mymensingh, Bangladesh. I am entrepreneur and also a media activist. This is my personal blog website. I am an curious woman who always seek for new knowledge & love to spread it through the writing. That’s why I’ve started this blog. I’ll write here sharing about the knowledge I’ve gained in my life. And main focus of my writing is about E-commerce, Business, Education, Research, Literature, My country & its tradition.
https://khjasha.com

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: