You are here
Home > মোটিভেশনাল > সেরা বিজনেস লিডার তৈরীতে ক্লাসিক সাহিত্য-Scotty McLennan

সেরা বিজনেস লিডার তৈরীতে ক্লাসিক সাহিত্য-Scotty McLennan

সেরা বিজনেস লিডার তৈরীতে ক্লাসিক সাহিত্য-Scotty McLennan
Spread the love

Scotty McLennan (Professor of Stanford Graduate School of Business): Great Literature for Great Leaders

Scotty McLennan (Professor of Stanford Graduate School of Business): Great Literature for Great Leaders
Scotty McLennan (Professor of Stanford Graduate School of Business)

1) What can Business Leaders Learn from Great Literature?

বিজনেস লিডার বা ওনারদের সাহিত্য কেনো পড়তে হবে?


বিজনেস স্টাডিজে সাধারণত কেইস স্টাডি, সফল বিজনেস ম্যানদের বায়োগ্রাফি ইত্যাদি সম্পর্কে স্টাডি করা হয়, যাতে শুধুমাত্র একটা কোম্পানি বা মানুষের কার্যক্ষেত্র বা বিজনেস সম্পর্কিত তথ্যই বেশি পাই আমরা। কিন্তু বিজনেস বা কাজের সাথে, এর বিভিন্ন ডিসিশন মেকিং এর সাথে কিন্তু কর্মক্ষেত্র ছাড়াও মানুষের জীবনের অন্যান্য অংশ যেমন -পারিবারিক, সামাজিক জীবনও বেশ ভূমিকা রাখে যা নিয়ে কোনো তথ্য কিন্তু এসব কেইস স্টাডি বা বায়োগ্রাফিতে ডিটেইলস থাকে না।

এখানেই এসবের সাথে সাহিত্যের মূল পার্থক্য – সাহিত্য পুরো জীবনের কথা বলে। সাহিত্যের চরিত্রগুলোর মাধ্যমে তাদের সম্পূর্ণ জীবনটাকেই আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাই, আর পুরো ব্যাপারটা উপলব্ধি করতে পারি।


যেমনঃ তারা ব্যক্তিগত জীবনে কি করছে, তাদের পরিবার, স্ত্রী, সন্তান তার জীবনে এবং কাজে কতটা প্রভাব ফেলছে, পারিবারিক জীবনের সাথে বিজনেস বা কাজকে কতটা ব্যালেন্স করে চলতে পারছে, এই দুই এর কনফ্লিক্টেড সিচুয়েশন বা ভালো-খারাপ সময়গুলোকে কিভাবে হ্যান্ডেল করছে এই সবই আমরা সাহিত্যের মাধ্যমেই উপলব্ধি করতে পারি।

তারপর আবার একেক সাহিত্যে একেক চরিত্র থাকে, তাদের কাজের ক্ষেত্র এবং তাকে ঘিরে গল্পগুলোও বদলাতে থাকে। কেউ লেখক, কেউ বিজনেসম্যান, কেউ শিক্ষক, কেউ শ্রমিক এবং চরিত্র অনুযায়ী তাদের জীবন এবং জীবনের সিদ্ধান্তগুলো কিরূপে পরিবর্তিত হচ্ছে, সাফল্যের সংজ্ঞা কার কাছে কেমন সবই বুঝতে পারা যায়।


সাহিত্যের পাঠকদের চিন্তাধারায় তখন ভিন্ন ভিন্ন সিচুয়েশনকে এনালাইসিস করার মতো দক্ষতা তৈরী হতে থাকে এবং সহজে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার এবিলিটি তৈরী হয়ে যায়।

2) What’s a Novel Every Business Student should Read?

প্রফেসর স্কটি ম্যাকল্যানান বিজনেস স্টুডেন্টদের জন্য স্কট ফিটজগ্যারাল্ডের “The Last Tycoon” বইটা সাজেস্ট করেছেন, যা ছিল লেখকের মৃত্যুর আগে লেখা শেষ বই, যা তিনি লিখে শেষ করে যেতে পারেন নি। এটা একটা অসমাপ্ত উপন্যাস। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র একজন হলিউড প্রডিউসার। তার জীবন থেকে শেখার মতো, উপলব্ধি করার মত অনেক কিছু আছে বলে প্রফেসর একে সাজেস্ট করেছেন।

যেমনঃ বইটায় হলিউড প্রডিউসার তার মুভি, নায়ক, নায়িকা, স্ক্রীপ্ট, সবকিছুর ম্যানেজমেন্ট, মুভি বাজেট ইত্যাদি নিয়ে যেভাবে কাজ করেছেন, কাজের প্রতি কতটা সিরিয়াসনেস ছিল তার, যা তাকে সফল প্রডিউসার করেছিল, সবকিছু থেকেই শেখার আছে অনেক। আবার তার পারিবারিক জীবন অনেকটা ট্র্যাজেডির মত ছিল। ওয়াইফ মারা গিয়েছিল, আবার সে অন্য মেয়ের সাথে প্রেম করেছিল, কিন্তু সবকিছুর উর্ধ্বে ছিল তার কাজ। এই প্রডিউসার এতোটাই কাজ পাগল ছিল যে, ডাক্তার তাকে বলেছিল এভাবে চললে মৃত্যু অবধারিত তার জন্য। ব্যস্ততার কারণে লাভ লাইফও ভালো চলছিল না তার। কারণ এতো ব্যস্ততা কে মেনে নিবে! সম্পর্কগুলোকে টিকিয়ে রাখতে তো অবশ্যই ন্যুনতম কেয়ারিং এর দরকার হয়, যা তার দ্বারা করা সম্ভব ছিল না। এক সময় ক্যারিয়ারে শতভাগ সফল একজন হলেও সে বাকি সব হারায়- পরিবার, প্রেম, সুস্বাস্থ্য সবকিছুই।

এখন আপনার দৃষ্টিতে এই প্রডিউসার বাস্তবিক অর্থেই কতটা সফল?


হয়ত কারো মতে,
ক্যারিয়ারের সাফল্যই আসল সাফল্য মনে হবে, আবার কেউ ভাববে যে, পারিবারিক জীবনেও ব্যালেন্স করা দরকার ছিল, সম্পর্কগুলোকে মূল্যায়ন করা দরকার ছিল, তবে সে সুখী হত। কি দরকার সংক্ষিপ্ত জীবনে এতো কাজের পেছনে ছোটার! তার থেকে বরং পরিবার, প্রেম, ভালোবাসা আর সম্পর্ক নিয়ে সুখী থাকার চেষ্টা করলেই তো হল।
কিন্তু অন্য আরেকজন ভাববে, পরিবারের বাইরেও আরও বড় কোনো পরিবর্তন তার দ্বারা আনা সম্ভব যা কিনা অনেকের জীবন বদলে দিবে, সমাজে ভালো পরিবর্তন আনবে, আর এজন্য যে কোনো সেক্রিফাইস করার মাঝেই বরং সাফল্য।


(আমাদের স্যার যেমন ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রি দাঁড় করাতে যেয়ে নিজের ক্যারিয়ার, পরিবার, আরাম আয়েশ, সুস্বাস্থ্যসহ জীবনের সবকিছুই সেক্রিফাইস করে দিয়েছেন। উনি এতেই উনার সাফল্য এবং জীবনের স্বার্থকতা খুঁজে পেয়েছেন।)


এই যে, সাহিত্যের চরিত্রগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ এনালাইসিস, ব্রেইনস্টোর্মিং করা হয়, এর মাধ্যমে পাঠকের চিন্তাশক্তি অনেক বেশি ডেভেলপ হয়, জীবনের সঠিক মানে খুঁজে পায় মানুষ। আর এজন্যই প্রফেসর এই বই সাজেস্ট করেছেন, যেখানে ক্যারিয়ার লাইফ এবং পারিবারিক লাইফের কনফ্লিক্ট, সাফল্য, ব্যর্থতা খুব স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ রয়েছে, যা একটা কেইস স্টাডি বা বায়োগ্রাফি পড়ে আয়ত্ত করা অসম্ভব।

3) Is it really possible to have it all in work and life?

মানুষ জন্মের পর থেকে সব সময় যেন অস্থির ভাবে দৌড়াতে থাকে জীবনের সাথে। ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর, ভালো কলেজে পড়তে হবে, তারপর ভালো ইউনিভার্সিটিতে চান্স পেতে হবে, তারপর শুরু হয় ভালো জব পেতে হবে, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিসিএস কোচিং করতে হবে, ক্যাডার হতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

একের পর এক স্টেপ নিয়ে এতোটাই ব্যস্ত থাকে যে, একটু থেমে ভাবার সময় নেই ১০/১৫/২০ বছর পর সে কি অবস্থানে থাকবে, জীবনকে তখন সে কিরূপে দেখতে চায়, কাজ এবং জীবনের সমন্বয় করে, ব্যালেন্স করে কতটা চলতে পারবে সে।

কিন্তু এগুলো নিয়েও ভাবা উচিত। সংসার, কাজ, সন্তান, সম্পর্ক নিয়ে বৃদ্ধ বয়সে সে কতটা সফলভাবে নিজের জীবনটাকে দেখতে চায় তা ভাবা উচিত এবং সেই অনুযায়ী নিজের করনীয় ঠিক করা উচিত। আমরা ছোট জীবনে খুব বেশি কিছু করার সুযোগ পাব না, খুব লিমিটেড জিনিস প্রায়োরিটি অনুযায়ী আমাদের বেছে নেয়া উচিত এবং ব্যালেন্স করা উচিত, যা আমাদের জীবনকে অনেক বেশি অর্থবহ করে তুলবে।

4) Why It’s important to read classic books more than once?

মানুষের চিন্তাধারায় বয়স এবং পারিপার্শ্বিকতার সাথে সাথে অনেক বেশি পরিবর্তন আসে। আর তাই একই সাহিত্যকে একেক বয়সের মানুষ একেকভাবে উপলব্ধি করে, একেক রকম মেসেজ সেখান থেকে নেয়।


প্রফেসর উনার এই স্পিচে “The Great Gatsby” নামের একটা বই এর উদাহরণ দিয়ে বলেছেন যে, এই বইটা পড়ে ১৬ বছরের একজন স্কুল পড়ুয়া যেভাবে ভাববে ২৮ বছরের একজন ভার্সিটি পড়ুয়া বিজনেস স্টুডেন্ট পড়লে একভাবে ভাববে না, আবার ৪৫ বছর বয়সের মধ্যবয়সী পাঠক বা ৬০ বছরের রিটায়ার্ড পার্সন পাঠক হলেও চিন্তা ভাবনায় অনেক পার্থক্য থাকবে। একেক বয়সের মানুষ একেক রকমভাবে সাহিত্যের চরিত্রগুলো এবং ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষণ করবে, তাৎপর্য ব্যাখ্যা করবে।

আর তাই একই ক্লাসিক সাহিত্য বার বার পড়া উচিত, অন্তত ১০ বছর পর পর পড়া উচিত বয়সানুসারে সেটা থেকে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা বা মেসেজটা নেয়ার জন্য, জীবেনের মানে খুঁজে পাওয়ার জন্য।


5) What are some other books on the essential reading list?


প্রফেসর কিছু বই এবং লেখকের নাম এর উত্তরে সাজেস্ট করেছেন, যেমন –

The Great Gatsby and The Last Tycoon by Fitgerald

Death of a Sales Man and All My Sons by Arthur Miller

Different Short Stories written by Flannary O’Connor

Books written by Jane Smiley.

And The Stranger, The Plague, The Fall.

এইসব লেখক এবং তাদের গল্পগুলো জীবনের নতুন মানে খুঁজে পেতে সাহায্য করবে বলে মত প্রকাশ করেছেন প্রফেসর।

6) What’s the greatest business lesson literature has to offer?

শেষের এই উত্তরে প্রফেসর আল্টিমেটলি সাহিত্যের যে অংশ বিজনেসকে দীর্ঘ সময় টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে সেটার কথাই বলেছেন। আর এই ব্যাপারটা হচ্ছে ভালোবাসা। অর্থাৎ বিজনেসের সাথে সম্পর্কিত প্রত্যেকটা সম্পর্ককে সর্বোচ্চ ভ্যালু দিতে হবে, তাদের ভালোবাসতে হবে, আন্তরিকএকটা সম্পর্ক তৈরী করতে হবে।

যেমন বলা যায়, কাস্টমার রিলেশনশীপ, আবার প্রডিউসার, ডিস্টরিবিউটর, সাপ্লায়ার, এমপ্লয় সবার সাথেই আন্তরিক একটা সম্পর্ক। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু। স্টেকহোল্ডারদের সাথে একটা আত্মিক সম্পর্ক সৃষ্টি করে ইমোশনালি কানেক্টেড থাকতে হবে তাদের সাথে যেন, দীর্ঘ সময় তাদের সাথে সুন্দর সম্পর্ক ধরে রাখা যায়। এটা বিজনেস টিকিয়ে রাখার মোস্ট ইফেক্টিভ ওয়ে। এই ভালোবাসা, সম্পর্ক আর মূল্যবোধের ব্যাপারগুলো সাহিত্য থেকে গ্রো হয় মানুষের মাঝে।

এই স্পিচটার গুরুত্ব এজন্য বেশি যে, স্ট্যানফোর্ডের মতো একটা ইউনিভার্সিটির একজন প্রফেসর এখানে কথা বলেছেন। আর স্ট্যানফোর্ড এমন একটা ইউনিভার্সিটি, যা বিলিয়নার ক্রিয়েট করে। অর্থাৎ সারাবিশ্বের বিলিয়নার বিজনেসম্যান এবং অনেক সফল মানুষ প্রডিউস হয়েছে এই ইউনিভার্সিটি থেকেই।


তবে উপরের প্রত্যেকটা উপদেশ, যা প্রফেসর দিয়েছেন এর সবগুলোই আমাদের Razib Ahmed স্যার সব সময় দিয়ে থাকেন আমাদেরকে। প্রত্যেকটা পয়েন্টের উত্তর স্যারের উপদেশগুলোর সাথে মিলে যায়। স্যার কিশোর ক্লাসিক আমাদেরকে এমনি এমনি পড়তে বলেন না, সাহিত্যের ভূমিকা আমাদের জীবনের সাথে এতোটা জড়িয়ে আছে বলেই এগুলো নিয়মিত পড়া দরকার আমাদের।


সর্বোপরি জীবনটাকে আপনি কিরূপে গড়ে তুলতে চান, সেই সিদ্ধান্ত সঠিক ওয়েতে নিতে আপনাকে সাহায্য করবে সাহিত্য, বিজনেস রিলেটেড সিদ্ধান্তগুলো নেয়াও এর মাধ্যমে অনেক সহজ হয়ে যাবে, জীবনের কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই আর কঠিন মনে হবে না। 


Spread the love
খাতুনে জান্নাত আশা
This is Khatun-A-Jannat Asha from Mymensingh, Bangladesh. I am entrepreneur and also a media activist. This is my personal blog website. I am an curious woman who always seek for new knowledge & love to spread it through the writing. That’s why I’ve started this blog. I’ll write here sharing about the knowledge I’ve gained in my life. And main focus of my writing is about E-commerce, Business, Education, Research, Literature, My country & its tradition.
https://khjasha.com

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: