You are here
Home > Blog > থট লিডারশীপ কী? কেনো?

থট লিডারশীপ কী? কেনো?

থট লিডার বলতে কী বোঝায়?

একটা ইন্ডাস্ট্রির থট লিডার এমন একজন ব্যাক্তি, যিনি তার দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা অন্যদের ইউনিক একটা গাইডলাইন দেয়, সৃজনশীল এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও কাজে উৎসাহিত করে, অনুপ্রাণিত করে এবং সাহস যোগায়। 

থট লিডার হতে হলে আপনাকে বিজনেসের চিন্তা থেকে সরে আসতে হবে। অন্যদের কথা মন দিয়ে শুনতে হবে, তাদেরকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে, কন্টিনিউয়াসলি স্টাডি করে যেতে হবে এবং নিজের ভালো লাগার ও দক্ষতার জায়গাটা খুঁজে বের করে সেটাকে কাজে লাগাতে হবে কোনো একটা ইন্ডাস্ট্রি বা এর অডিয়েন্সদের জন্য। 

আপনি এই ইন্ডাস্ট্রির জন্য কাজ করছেন, এই টপিকে আপনি সর্বোচ্চ দক্ষ একজন ব্যক্তি, এই ব্যাপারগুলো সামনে নিয়ে আসতে হবে আপনাকেই, আপনার উপস্থিতি জানান দিতে হবে আপনাকেই। নিয়মিত আপনি আপনার লেখা এবং কথার মাধ্যমে সব জায়গায় আপনার দক্ষতা এবং নলেজের প্রকাশ ঘটাবেন। সেটা আপনার সোসাল মিডিয়া এক্টিভিটির মাধ্যমে হতে পারে, আপনার পার্সোনাল ব্লগ থাকতে পারে, বিভিন্ন মিডিয়ায় লেখা এবং কথা বলার মাধ্যমে হতে পারে, বিভিন্ন অফলাইন অনলাইন ইভেন্টের সাথে যুক্ত থেকে হতে পারে। 

সর্বোপরি আপনার উপস্থিতি এবং কার্যক্রমই প্রমাণ করবে আপনি এই ইন্ডাস্ট্রির জন্য বা এই বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি, আপনার দক্ষতা এবং জ্ঞান এদিকে অনেক বেশি যা অন্য কারো নেই। 

আমরা অনেকে হয়ত অনেক জানি, দারুণ সব আইডিয়াও আমরা জেনারেট করতে পারি, কিন্তু একজন প্রকৃত থট লিডার তাদের আইডিয়াগুলোকে প্রকাশ করে, শেয়ার করে এবং অন্যদেরকে অনুপ্রাণিত করে সেই আইডিয়াগুলোকে কার্যকর করার জন্য। 

আমাদের রাজিব আহমেদ স্যার যেমন ই-কমার্স এবং দেশি পণ্যের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে প্রতিদিনই ইউনিক সব আইডিয়া জেনারেট করেন এবং উনার লেখা ও কথার মাধ্যমে আমাদের সাথে শেয়ার করেন। স্যার এমনভাবেই শেয়ার করেন যে, আমরা অটোমেটিক সেই আইডিয়াগুলো নিয়ে যার যার জায়গা থেকে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেটাকে কার্যকর করার চেষ্টা করি। 

এক্ষেত্রে আরেকটা ব্যাপারও লক্ষ্যনীয় যে, স্যার কিন্তু কখনো আইডিয়ার ক্রেডিট চান না, স্বীকৃতি চান না। তার থেকে বরং সবাই সেই আইডিয়াকে নিজেদের ভালোর জন্য, ইন্ডাস্ট্রির ভালোর জন্য কাজে লাগাক তাই চান। স্যারের এমন অনেক আইডিয়া আছে, যার অসাধারণ  কার্যকারিতা এবং ফলাফল আমরা দেখতে পেয়েছি, এই ইন্ডাস্ট্রিও এর জন্য বড় হয়েছে, কিন্তু স্যারের ব্যক্তিগত স্বার্থ দূরের কথা স্যারের নামই সেগুলোর সাথে এখন নিতে চান না অনেকে, স্যারের আইডিয়া বলে স্বীকারই করেন না৷ তাতে স্যার অখুশি না, বরং খুশি যে, তার আইডিয়া কাজে তো লাগছে, মানুষের উপকার হচ্ছে, ইন্ডাস্ট্রি বড় হচ্ছে, ক্রেডিট তিনি পান বা না পান। 

একজন থট লিডার ভবিষ্যতে কি আসতে চলেছে, নতুন কি ট্রেন্ড সামনে আসছে, তা আগে থেকেই বুঝতে পারে এবং সেই অনুযায়ী সবাইকে তৈরি হওয়ার জন্য উৎসাহিত করে। 

রাজিব আহমেদ স্যার ২০১৪ সাল থেকে ই-কমার্স এবং দেশি পণ্যের কথা বলেছেন, এই ইন্ডাস্ট্রির সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন। এটি এক সময় বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হবে বলেছিলেন স্যার। স্যারের প্রতিটি অনুমান এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন চিন্তাই এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে। 

থট লিডার শুধু আইডিয়াই দেন না, এই আইডিয়া বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কি সমস্যা আসতে পারে এবং সেগুলো কীভাবে সমাধান করা যেতে পারে, সবকিছুই বাতলে দেন। 

আপনি কীভাবে নিজেকে একজন থট লিডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন?

থট লিডারশীপ এমন কিছু না, যা রাতারাতি আপনি অর্জন করে ফেলতে পারবেন। এটি একটি ব্লগ, সোসাল পোস্ট বা নেটওয়ার্কিং ইভেন্টের চেয়েও বেশি কিছু, যা একজনকে কোনো সেক্টরের সর্বোচ্চ বিশ্বাসযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। দক্ষতা, অন্তর্দৃষ্টি এবং মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গিই হলো থট লিডারশীপ অর্জনের প্রধান উপাদান। দীর্ঘ সময় ধরে অভিজ্ঞতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে লেগে থাকতে হবে এর জন্য। 

কোনো বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে অনেক সময় ও ধৈর্য লাগে এবং অন্যের কথা শোনা ও অন্যের থেকে শেখার মতো মানসিকতা থাকতে হয়। থট লিডার তাঁর চারপাশের পরিবেশ এবং মানুষদের থেকে শিখে, মন দিয়ে সবকিছু অবজার্ভ করে। তারপর বিভিন্ন সোর্স থেকে পাওয়া সব তথ্য, নলেজ এবং শিক্ষাকে একত্রিত করে, এনালাইসিস করে এবং ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহার করে৷ মানুষের কাছে একজন থট লিডারের বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে উঠে তাঁর মনুষ্যত্ববোধ, সততা, মানুষকে ইতিবাচক দিকে পরিচালিত করার ক্ষমতা ইত্যাদির সমন্বয়ে। 

রাজিব আহমেদ স্যারের জীবনযাত্রা থেকে আমরা এরূপ শিক্ষাই পেয়েছি। তিনি সব সময় খুব সাধারণ মানুষদের সাথে চলেছেন, সাধারণ পরিবেশের সাথে মিশেছেন। ধানমন্ডি লেকের চায়ের দোকানগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে মানুষকে শোনার এবং বোঝার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম কিসে হতাশ, তাদের কী দরকার, কীসের অভাব, কীসের অপূর্ণতা, কোন দিকে তাদেরকে পরিচালিত করলে তারা নিজের স্বপ্ন নিয়ে সহজে পথ চলতে পারবে, ক্যারিয়ার গড়তে পারবে সেগুলো তাদের সাথে মিশেই বোঝার চেষ্টা করেছেন। এরপর তিনি তার অনেক বছরের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা আর জ্ঞানকে একত্রিত করে তাদের জন্য বিভিন্ন আইডিয়া এবং গাইডলাইন তৈরি করেছেন, তাদেরকে বোঝাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অফলাইন ও অনলাইনে ব্যয় করেছেন। তাই স্যার আমাদের একজন আদর্শ, আমাদের একজন বিশ্বাসযোগ্য গাইড, মেন্টর এবং থট লিডার। 

আরও কিছু বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে। 

রাজিব আহমেদ স্যার যেমন বেশি কয়েকটি সেক্টরে থট লিডার। যেমন- অনলাইনকে কাজে লাগিয়ে লেখাপড়া, বিজনেস করা, ইংরেজিতে দক্ষ করা, ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রি, দেশি পণ্য ইত্যাদি। যদিও এগুলোর কমন বিষয় হচ্ছে অনলাইন, তারপরও এগুলো ভিন্ন ভিন্ন টপিক। সব মিলিয়ে এটি বিশাল একটা ব্যাপার! একজন মানুষের জন্য এতোদিকে দক্ষতা অর্জন করা খুব সহজ ব্যাপার নয়। স্যার নিজের ব্যক্তিগত জীবন টোটালি বাদ দিয়ে এই এবিলিটি অর্জন করেছেন। 

এমনটা কিন্তু আমরা সবাই করব না বা করার দরকারও নেই। একটা ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু বিশাল, এর সবদিক নিয়ে চিন্তা করা আমাদের জন্য বেশ কঠিন ব্যাপার। তার থেকে বরং আমরা স্পেসিফিক কিছু টপিককে বেছে নিব আমাদের পছন্দ মতো বা আমাদের জন্য যা সহজ হবে এমন টপিক। পুরো একটা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার চেষ্টা করার থেকে এর একটা দিক নিয়ে চেষ্টা করলে অনেক দ্রুত থট লিডারশীপ এবিলিটি অর্জন সম্ভব হবে।

যেমনঃ শুধু জামদানি বা খেশ বা খাদি বা দেশি শাল বা দেশি শাড়ি বা রাজশাহী সিল্ক বা বেনারসি বা দেশি থ্রিপিস বা ছেলেদের দেশি পোশাক ইত্যাদি এমন অসংখ্য আলাদা আলাদা সেক্টর নিয়ে আমরা চিন্তা করতে পারি এবং সেই সেই ক্ষেত্রে থট লিডারশীপ অর্জনের চেষ্টা করতে পারি। 

প্রত্যেকটা ইন্ডাস্ট্রি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়। একজন থট লিডার সব সময় তার নিজ সেক্টর বা ইন্ডাস্ট্রির ব্যাপারে সবচেয়ে আপডেটেড থাকে। ভবিষ্যতে কী আসতে চলেছে, তা সে আগেই বুঝতে পারে এবং তা নিয়ে প্রতিনিয়ত তার গভীর এনালাইটিক্যাল তথ্য ও মতামত শেয়ার করে। থট লিডারের এই বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্য অন্যদেরকে আপকামিং ট্রেন্ড বা পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে এবং সেভাবে নিজেদের তৈরি করতে সাহায্য করে। 

যেমন- রাজিব আহমেদ স্যার ২০২০ সাল থেকেই সবাইকে উৎসাহিত করছেন বিজনেসের ক্ষেত্রে ফেইসবুক পেইজের চেয়ে পার্সোনাল প্রোফাইলের দিকে বেশি ফোকাস করার জন্য এবং নিয়মিত নিজেদের প্রোফাইলে প্রোডাক্ট নিয়ে পোস্ট দেয়ার জন্য। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ফেইসবুকের বিজনেস পেইজ রীচ এবং এনগেইজমেন্ট রেইট সামনে আরও কমতে চলেছে যার জন্য আমাদের তৈরি হওয়া দরকার এবং এর সবচেয়ে কার্যকরী বিকল্প হলো নিজেদের পার্সোনাল প্রোফাইল। স্যারের সেই প্রিডিকশনকে যারা সিরিয়াসলি নিয়েছিলেন, তারা এখন প্রোফাইল থেকেই লাখ লাখ টাকার প্রোডাক্ট সেল করছেন। কোনো পেইজ বা গ্রুপের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে না, পেইজ বুস্ট করে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে না। 

স্যার আরেকটা প্রিডিকশন করেছিলেন যে, সামনে ফেইসবুক ছোট গ্রুপগুলোকে বেশি প্রাধান্য দিতে চলেছে। এটার সত্যতাও আমরা খুঁজে পেয়েছি৷ গত ২বছরে ৫০০ এর বেশি ফেইসবুক গ্রুপ দেশি পন্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এবং যারা ছোট গ্রুপগুলোতে সিরিয়াসভাবে সময় দিয়েছেন, দ্রুত তাদের পার্সোনাল ব্র‍্যান্ডিং গড়ে উঠেছে যা তাদের সেল বৃদ্ধিতে অনেক বেশি সাহায্য করেছে। শাড়ির জন্য পরিধানশৈলি এবং হোমমেইড ফুডের জন্য টেস্টবিডি উদ্যোক্তাদের জন্য আদর্শ প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে। 

থট লিডার হতে হলে তাই আমাদের চিন্তার এমন গভীরতা থাকতে হবে৷ প্রতিদিন নিজের সেক্টর নিয়ে পড়তে হবে এবং বোঝার চেষ্টা করতে হবে কিসের জন্য আমরা তৈরি হব। 

খাতুনে জান্নাত আশা
This is Khatun-A-Jannat Asha from Mymensingh, Bangladesh. I am entrepreneur and also a media activist. This is my personal blog website. I am an curious woman who always seek for new knowledge & love to spread it through the writing. That’s why I’ve started this blog. I’ll write here sharing about the knowledge I’ve gained in my life. And main focus of my writing is about E-commerce, Business, Education, Research, Literature, My country & its tradition.
https://khjasha.com

Leave a Reply

Top