You are here
Home > বুক সামারি & রিভিউ > কিশোর ক্লাসিক- “দ্য স্কারলেট পিম্পারনেল”

কিশোর ক্লাসিক- “দ্য স্কারলেট পিম্পারনেল”

Spread the love

“দ্য স্কারলেট পিম্পারনেল”
ব্যারোনেস ওর্কজি

ফ্রান্সের অভিজাতদের দ্বারা বহুবছর সাধারন মানুষ নির্যাতিত হবার পর ফরাসী বিপ্লবের সূত্রপাত হল।

জনগন তাই এর প্রতিশোধ নিতে শুরু করল। রাজা রানী ওদের হাতে বন্দি হল, আর অভিজাতদের ধরে ধরে এনে গিলোটিনে মাথা কেটে নিচ্ছিল।

ঠিক তখনই একদল ইংরেজ তরুন গোপনে এই অভিজাতদেরকে বাঁচিয়ে ইংল্যান্ডে নিয়ে যেতে থাকে আর তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে রেখে যায় একটা চিরকুট, তাতে ’স্কারলেট পিম্পারনেল’ নামক ছোট্ট একটা তারার মতো ফুলের চিহ্ন লাল কালি দিয়ে আঁকা থাকে।


কে, কিভাবে এই কাগজ ফেলে রেখে যায়, এ যেন এক রহস্য সবার কাছেই। কে এই স্কারলেট পিম্পারনেল! এটা জানার জন্য, আর ওকে ধরে এনে গিলোটিনে দেয়ার জন্য মানুষ সব অস্থির হয়ে যায়।

তাই ফ্রান্স থেকে ইংল্যান্ডে অনেক গুপ্তচর পাঠানো হয় স্কারলেট পিম্পারনলকে ধরার উদ্দ্যেশ্যে। ওকে ধরার চেষ্টা অনেক করেও অনেকবার ব্যর্থ হয়েছে তারা, কারন সেই ধুরন্দর ব্যক্তিটি নানান ছদ্মবেশে ওদের চোখে ধূলো দিয়ে সামনে দিয়েই অভিজাতদের নিয়ে যায়।


ইংল্যান্ডের এক সরাইখানায় এনে প্রথমে তোলা হয় ফরাসী অভিজাতদেরকে।

তো সেদিন ফ্রান্সের এক কাউন্টের পরিবারকে নিয়ে আসা হল ইংল্যান্ডে, তাদেরকে এখানে আসতে সাহয্য করেছে স্কারলেট পিম্পারনেল দলের সদস্য স্যার এন্ড্রু। সেই পরিবারে মেয়ে সুজানা আর এন্ড্রু একে অন্যের প্রেমে পরে যায়।

সে রাতে গ্রামের সেই সরাই এ এসে উপস্থিত হয় লেডি ব্ল্যাকনি আর স্যার পার্সি। তাদের আগমনের কারন হল লেডি ব্ল্যাকনির ভাই আজ ইংল্যান্ড ছেড়ে পাড়ি জমাচ্ছে ফ্রান্সের উদ্দ্যেশ্যে, ওকেই বিদায় জানাতে এসেছে ওরা।

লেডি ব্ল্যাকনি কিন্তু ফরাসি অভিনেত্রী, স্যার পার্সির ভালোবাসায় ভুলে সে বিয়ে করে এখন ইংল্যান্ডবাসী হয়েছে। স্যার পার্সি ইংল্যান্ডের বিশাল এক ধনী ব্যক্তিত্ত্ব, তবে বোকা বলেই জানে তাকে ইংরেজরা। সে লেডি ব্ল্যাকনির মতো সুন্দরী আর বুদ্ধিমতী স্ত্রী পেয়েছে কিভাবে এই ভেবেই সবাই অবাক হয়।

তারা একে অন্যকে ভালোবেসেই বিয়ে করেছিল, আর লেডি ব্ল্যাকনি ভাবত স্যার পার্সি তার প্রেমে অন্ধ। তাই বিয়ের পর সে স্যার পার্সির সাথে শেয়ার করে যে, ওর জবানবন্দিতে ফরাসী এক অভিজাত পরিবারের সবাইকে গিলোটিনে প্রান দিতে হয়েছিল, কারন সেই পরিবারের কর্তা তার ভাইকে মেরেছিল, সেটারই প্রতিশোধ নিয়েছে সে।

সেই থেকে স্যার পার্সির আচরণ স্ত্রীর প্রতি শীতল হল, আগের সেই তীব্র ভালোবাসা কোথায় যেন উবে গেল।

যাক সে সব কথা, লেডি ব্ল্যাকনি তার ভাইকে ভীষন ভালোবাসে, ফ্রান্সের এই পরিস্থিতিতে সে চাইছিল না অ্যারামন্ড ফ্রান্সে যাক। কিন্তু ওকে যেতেই হবে বলল, অজানা এক আশঙ্কা ব্ল্যাকনিকে ঘিরে ধরল, তার মনে হল ভাই এর সাথে তার এই দেখাই শেষ দেখা।

আর স্বামী পার্সির সাথেও তার এমন একটা সম্পর্ক হয়েছে এখন যে, স্বামীকে সহ্যই করতে পারেনা, কারন পার্সির চোখে তার জন্য আগের সেই ভালোবাসা আর খুঁজে পায় না।

ফ্রান্স থেকে শোভলিনকে ইংল্যন্ডে পাঠানো হয় স্কারলেট পিম্পারনেলকে খুঁজে বের করার জন্য।

শোভ্লিন লেডি ব্ল্যাকনির কাছে আসে ওকে সাহায্য করার জন্য। কিন্তু ব্ল্যাকনি সাহায্য করতে না চাওয়ায় ওকে ভয় দেখানো হয় যে, সে পিম্পারনেলকে খুঁজে না দিলে তার ভাইকে আর কখনো দেখতে পাবেনা। ভাইকে বাঁচানোর জন্যই রাজী হয়ে যায় সে।

সবাই চলে যাওয়ার পর রাতের অন্ধকারে স্যার এন্ড্রুর উপর হঠাত আক্রমণ করে কিছু লোক, ওরা ফরাসী গুপ্তচর এসেছে স্কারলেট পিম্পারনেল সম্পর্কে তথ্য নেয়ার উদ্দ্যেশ্যে, পেয়েও যায় এন্ড্রুকে দেয়া একটা চিরকুট যেখানে বলা থাকে গোপন সাক্ষাতের প্লেস আর টাইম।

শোভ্লিন এই চিরকুটের কথা লেডি ব্ল্যাকনিকে জানায়, লর্ড গ্রেনভিলের বল- এ স্কারলেট পিম্পারনেল আসবে এবং অবশ্যই লেডি ব্ল্যাকনিকে কৌশলে খুঁজে বের করতে হবে কে সে? ভাইকে বাঁচাতে চাইলে এই কাজ তাকে করতেই হবে আবার সাবধান করে দিল।

অনিচ্ছা স্বত্তেও লেডি ব্ল্যাকনি এন্ড্রুর দিকে নজর রাখতে গেলেন, কারন ওর পিছু নিলেই সে পিম্পারনেলের সন্ধান পাবে। এন্ড্রু থেকে সে কৌশলে জেনে নেয় এখানে কোথায় সে নেতার সাথে দেখা করবে, এন্ড্রুর সন্দেহ হয় লেডি ব্ল্যাকনির প্রতি কিন্তু তার নেতাকে সাবধান করার সুযোগ হয় না।

লেডি ব্ল্যাকনি শোভ্লিনকে জানায় যে, সাপার রুমে দেখা করবে ওরা। শোভ্লিন সাপার রুমে গিয়ে দেখে স্যার পার্সি এক কোনে শুয়ে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে শান্তির ঘুম, সেও এক কোনায় ঘুমের ভান ধরে শুয়ে থাকল স্কারলেট পিম্পারনেল আর এন্ড্রুর আগমনের অপেক্ষায়। অনেক সময় অপেক্ষার পরও কেউ এলোনা।

লেডি ব্ল্যাকনি অস্থিরতায় ভুগছিলেন, প্রোগ্রামে তার আর ভালো লাগছিল না বলে স্যার পার্সিকে ডেকে পাঠালেন বাড়ি যাওয়ার জন্য। শোভ্লিনও অপেক্ষা করে পেলেন না স্কারলেট পিম্পারনেল কে, ব্যর্থ হল তাদের এই মিশন।

লেডি ব্ল্যাকনি খুব কষ্ট পাচ্ছিল, ভয় পাচ্ছিল তার ভাই এর কি হবে তা ভেবে, স্বামীর সাথে অবশেষে শেয়ার করল সবকিছু সে। পার্সি শীতলতার সাথে অভয় দিলেন যে তিনি চেষ্টা করবেন যেন শ্যলকের কিছু না হয়।

এদিকে পরদিন লেডি ব্ল্যাকনি শুনতে পেল তার স্বামী পার্সি হঠাত এক জ্রুরী কাজে উত্তরাঞ্চলে যাবে, অবাক হল সে। তাকে কিছু না জানিয়েই রওনা হয়ে যাচ্ছিল বলে দুঃখ পেল সে।

হাঁটতে হাঁটতে সে পার্সির স্টাডি রুমে গেল, যেখানে চাকর বাকর কেউ কখনো ঢুকার সাহস করেনা, সে জানে এখানে তার বোকা স্বামী বসে বসে শুধু ঘুমায়। কিন্তু আজ নিজে এসে আবিষ্কার করল নতুন কিছু, ফ্রান্সের মানচিত্র আর স্কারলেট পিম্পারনেলের সেই চিহ্ন আর আংটি।

বুঝল তার স্বামী পার্সি, যাকে সে এতদিন শুধু সামান্য একটা অভিজাত বোকা লোক বলে জেনে আসছিল সেই লোকটা কিনা এতো সাহসিকতার একটা কাজ করে যাচ্ছে এতো মানুষকে বোকা বানিয়ে! তার গর্ব হল একিসাথে ভয় হল।

তার স্বামী উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার কথা বলে আসলে ফ্রান্সে গিয়েছে বুঝতে পারল।

শোভ্লিনের কাছ থেকে একটা চিঠি আসল তখন যে, ওরা স্কারলেট পিম্পারনেলকে চিনতে পেরেছে, এখন শুধু ধরার অপেক্ষা। এটা জানার পর তো ব্ল্যাকনি প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেল, কি করবে কোথায় যাবে স্বামীকে বাঁচানোর জন্য কিছুই বুঝতে পারছিল না।

দ্রুত সে স্যার এন্ড্রুর কাছে গিয়ে সব বলল, এন্ড্রুও শুনে বোকা বনে গেল এবং ছন্মবেশে তারা ফ্রান্স যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল শোভ্লিনের আগেই সেখানে পৌঁছে পার্সিকে সাবধান করে দিতে হবে।


ফ্রান্সে গিয়ে এক নোংরা সরাইখানায় পৌছাল ওরা যেখানে পার্সির থাকার কথা। শোভ্লিনও স্কারলেট পিম্পারনেলকে খুঁজতে এখানেই আসবে। পার্সির জন্য অপেক্ষা করতে করতেই সেখানে শোভ্লিন পৌঁছে গেল তবে পাদ্রির ছদ্মবেশে। তাকে ঠিক চিনল লেডি ব্ল্যাকনি।

শোভ্লিন তার লোকদের নির্দেশনা দিল যে, লম্বা লোক দেখলেই যেন আটক করে,ছদ্মবেশ নিলেও তো আর পার্সি নিজের উচ্চতা ঢাকতে পারবে না! লেডি ব্ল্যাকনি অসহায়ের মতো বসে বসে সব দেখছিল।

কিসের ছদ্মবেশ !

পার্সি গান গাইতে গাইতে এলো সেখানে, শোভ্লিনের কাছে যেচে গিয়ে কথা বলল, শোভ্লিনও যতটা সম্ভব স্বাভাবিক থেকে কথা বলল, যদিও অবাক হয়েছে। সৈন্যদের পাঠিয়ে দিয়েছে বলে আটকও করতে পারছিল না। পার্সি কিছুক্ষন কথা বলে চলে গেল সেখান থেকে।

আরও কিছুক্ষন পর সৈন্যরা ফিরে এলো বুড়ো এক ইহুদি ব্যক্তিকে নিয়ে, ইহুদি লোকটা জানাল যে, সে এক কুটিরের সন্ধান দি্তে পারে যেখানে স্কারলেট পিম্পারনেল কে পাওয়া যাবে। তারা সাথে সাথে রওনা হল ইহুদীর ঘোড়ার গাড়িতে চেপে।

লেডি ব্ল্যাকনিও ওদের পেছন পেছন নিরাপদ দূরত্বে থেকে চলল পাহাড়ি পথ ধরে। অন্ধকারে এভাবে হেঁটে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছিল সে, সেদিকে পরোয়া করল না সে, স্বামীকে যে করেই হোক বাঁচাতে হবে তো।

সেই কুটিরে গিয়ে পৌছাল ওরা। লেডি ব্ল্যাকনির ইচ্ছে হল কুটিরের সবাইকে চেচিয়ে সাবধান করে দেয়। কিন্তু তার আগেই সে হঠাত পা পিছলে পরে গেল, আর ধরা পরল শোভ্লিনের হাতে।

শোভ্লিন তো দেখে অবাক, হেসে উঠল সে। রুমাল দিয়ে মুখ বেঁধে দিয়ে বলল, আপনার তো স্কারলেট পিম্পারনলকে নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই, ভাই কে বাঁচাতে পারলেই হল। তাই চুপ থাকেন, না হয় আপনার সামনেই আপনার ভাইকে গুলি করে মারা হবে। কিন্তু লেডি ব্ল্যাকনির মাথায় আসলে তখন স্বামীকে বাঁচানোর চিন্তাই বেশি।

অনেক সময় অপেক্ষার পর কোন সাড়া না পেয়ে তারা কুড়েতে ঢুকল, অবাক হয়ে দেখল সেখানে কেউ নেই। কিভাবে পালাল বুঝতেই পারল না তারা। সাথে সৈন্যদের পাঠিয়ে দিল সৈকতে পালিয়ে ইংল্যান্ড যাওয়ার আগেই ওদেরকে খুঁজে ধরে আনার জন্য। ইহুদী বুড়োটা কে অনেক মেরে ফেলে রেখে গেল কুড়ে তে আর সাথে লেডি ব্ল্যাকনি কেও।

হঠাৎ লেডি ব্ল্যাকনি শুনতে পেল পার্সির সেই গান “গড সেইভ দ্য কিং”!

কোথা থেকে এই গানের শব্দ আসছে বুঝতে পারল না। অনেকক্ষন ধরে চারদিকে তাকিয়ে খুঁজতে খুঁজতে ইহুদি বুড়োটার দিকে দৃষ্টি পরতেই বুঝল আওয়াজটা সেখান থেকেই আসছে। সে বুজল তার স্বামী পার্সিই ইহুদির ছদ্মবেশে এখানে আছে, দ্রুত গিয়ে হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিল।

পার্সি ছদ্মবেশ খুলে বেরিয়ে আসল, বুড়ো ইহুদি সেজে আর মার খেয়ে কাহিল অবস্থা তার, তারপরও হাসতে লাগল ওদের বোকা বানাতে পেরেছে বলে, দ্রুত তারা এখান থেকে পালাল তাদের জন্য সমুদ্রে অপেক্ষমাণ ইয়টের উদ্দ্যেশ্যে।

স্বামী স্ত্রীর সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান হল, সম্পর্কে শীতলতার পরিবর্তে ফিরে এলো আবার উষ্ণতা, সেই প্রেমের দিনগুলোর মতো। স্যার এন্ড্রুও বিয়ে করল সেই ফরাসী মেয়ে সুজানাকে।

স্যার পার্সি প্রমান করে দিল সে দেখতে সবার কাছে বোকা হলেও ,তার বোকা বোকা হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখে সে ভয়ংকর সাহস আর চৌকস বুদ্ধি, যার দ্বারা সে যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে। বোকা বোকা হাসিটা যেন তার প্রকৃত সত্ত্বার খোলসমাত্র।


Spread the love
খাতুনে জান্নাত আশা
This is Khatun-A-Jannat Asha from Mymensingh, Bangladesh. I am entrepreneur and also a media activist. This is my personal blog website. I am an curious woman who always seek for new knowledge & love to spread it through the writing. That’s why I’ve started this blog. I’ll write here sharing about the knowledge I’ve gained in my life. And main focus of my writing is about E-commerce, Business, Education, Research, Literature, My country & its tradition.
https://khjasha.com

2 thoughts on “কিশোর ক্লাসিক- “দ্য স্কারলেট পিম্পারনেল”

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: