You are here
Home > বুক সামারি & রিভিউ > কিশোর ক্লাসিক রিভিউ- ক্যাপ্টেন গ্র্যান্টস চিলড্রেন (জুলভার্ন)

কিশোর ক্লাসিক রিভিউ- ক্যাপ্টেন গ্র্যান্টস চিলড্রেন (জুলভার্ন)

ফরাসি লেখক জুলভার্নের লেখা মানেই রোমাঞ্চকর কোনো অভিযানের গল্প৷ তাঁর লেখনী পড়ার সাথে সাথে বিশ্বভ্রমন হয়ে গিয়েছে অসংখ্য বার। কারণ তিনি আমার অন্যতম প্রিয় একজন লেখক, তাই তাঁর অধিকাংশ লেখাই পড়েছি আর তাঁর সাথে সাহসী সব অভিযানে সঙ্গী হয়েছি। আজকে পড়ে শেষ করলাম “ক্যাপ্টেন গ্র‍্যান্ট’স চিল্ড্রেন”। খুব ছোট্ট একটা অভিযানের গল্প এটা, অথচ সমুদ্র, পাহাড়, দুর্গম গিরিপথ, আগ্নেয়গিরি, তুষার ঝড়, ভয়ংকর ইন্ডিয়ান সহ কী নেই এই গল্পে তাই ভাবছি! 

জুলভার্নের এই উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৮ সালে৷ পাঠকরা এটি এতোটাই পছন্দ করেছিল যে, জুলভার্ন এর ধারাবাহিকতায় ট্রিলজি উপন্যাসের চিন্তা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ” টুয়েন্টি থাউজ্যান্ড লিগস আন্ডার দ্য সি” এবং “দ্য মিস্ট্রিয়াস আইসল্যান্ড” লেখার মাধ্যমে সেই চিন্তা বাস্তবায়ন করেছিলেন। 

আর মজার ব্যাপার হলো, পরবর্তী দুইটা উপন্যাস আমার খুব পছন্দের হওয়ায় বেশ কয়েকবার পড়া হলেও প্রথমটিই এতো বছর পর আজ পড়া হলো। 

সে যাই হোক, এই লেখার মাধ্যমে আপনাদেরকে গল্পটা সম্পর্কে সংক্ষেপে ধারণা দেওয়াই আমার উদ্দেশ্য। 

সামারিঃ

১৮৬৪ সালের ঘটনা। ব্রিটিশ পতাকাবাহী চমৎকার একটি জাহাজ ডানকানে চড়ে মধুচন্দ্রিমায় যাচ্ছিলেন লর্ড এডওয়ার্ড গ্লেনারভ্যান আর তার স্ত্রী। সাথে সঙ্গী ছিলেন লর্ড এডওয়ার্ডের এক ভাই মেজর ম্যাকনেবলস। এ যাত্রায় হঠাৎ করেই জাহাজের নাবিকরা প্রকান্ড এক ডগ ফিশ ধরে জাহাজে তুলে আর এর পেটের ভেতরে পায় এক শ্যাম্পেনের বোতল। 

রহস্য রোমাঞ্চের শুরু হয় এখান থেকেই, যখন দেখা যায় মাছের পেটে শ্যাম্পেনের বোতল থাকলেও এর ভেতরে শ্যাম্পেনের বদলে আছে কিছু কাগজের টুকরো। তিনটা কাগজের টুকরোতে একই লেখা ছিল ৩টা ভিন্ন ভিন্ন ভাষায়। পানিতে ভিজে প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়া কাগজগুলোকে একসাথে করে লেখা পড়ে যে মর্মার্থ উদ্ধার করতে পারলেন তারা, তার মূল বিষয় হলো- 

দ্বীপ আবিষ্কার করতে গিয়ে ১৮৬২ সালে যে ক্যাপ্টেন গ্র‍্যান্টের জাহাজ সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়েছিল, সেই ক্যাপ্টেন তার দুই সহকারীকে নিয়ে বাঁচতে সক্ষম হয়েছিলেন, কিন্তু তাদের সাহায্য দরকার। সমুদ্রের ঠিক কোথায় জাহাজটি ডুবেছিল সেই জায়গার অক্ষাংশ দ্রামিঘাংশের ধারণাও দেয়া ছিল কাগজগুলোতে। 

লর্ড এডওয়ার্ড আর স্ত্রী তৎক্ষনাৎ সিদ্ধান্ত নিলেন ক্যাপ্টেন গ্র‍্যান্টকে তারা খুঁজে বের করবেন। তারা ক্যাপ্টেন গ্র‍্যান্টের মেয়ে মেরি এবং ছেলে রবার্ট এর সন্ধান করে, তাদেরকে সাথে নিয়ে মেজর ম্যাকনেবলস সহ ২৩জনের একটা অনুসন্ধানী দল নিয়ে ডানকানে চড়েই যাত্রা শুরু করলেন ক্যাপ্টেন গ্র‍্যান্টের খুঁজে। জাহাজ ছাড়ার পর ভুল করে ডানকানে উঠে যাওয়া জ্যাক প্যাগানেল নামের এক সাহসী যুবককেও তাদের অভিযাত্রায় সঙ্গী হিশেবে পেয়ে যায় তারা। 

তবে সেই ভেজা কাগজের টুকরোগুলো থেকে তারা সেই জাহাজ ডুবি এবং ক্যাপ্টেন গ্র‍্যান্টের সম্ভাব্য জায়গা হিশেবে যে জায়গাটাকে চিহ্নিত করে, তা বার বার ভুল হয় সঠিকভাবে লেখাগুলো বুঝতে না পারার কারণে। অনেক বার ডানকান সমুদ্রে ঝড়ের কবলে পরে। তারপর আবার তারা জাহাজ থেকে নেমে দুর্গম স্থলপথেও অনুসন্ধান অভিযান চালায়। ইন্ডিয়ানদের দ্বারা বন্দি হয়, ভূমিকম্প আর তুষার ঝড়ের কবলে পরে। 

এভাবে একদিন ক্যাপ্টেন গ্র‍্যান্টের জাহাজ থেকে রক্ষা পাওয়া এক বিদ্রোহী ক্রুর সাথেও তাদের দেখা হয়ে যায়। সেই লোক তাদেরকে সাহায্যের নামে উলটো বিপদে ফেলে ডানকান নিয়ে পালানোরও ফন্দি করে। একের পর এক দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে যায় তারা, তাদের খাবার, পানি নিঃশেষ হয়ে যায়। তারপরও তারা আশা হারায় না। ক্যাপ্টেন গ্র‍্যান্ট বেঁচে আছে এবং তারা তাকে উদ্ধার করবে এই সংকল্প মনে নিয়েই পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেনো পথ চলতে থাকে তারা। আর সারা দুনিয়া ঘুরে শেষে ৩৭°১১’ অক্ষাংশে অবস্থিত ট্যাবর নামক এক দ্বীপে তারা খুঁজে পায় ক্যাপ্টেন গ্র‍্যান্ট এবং তার সহকারীকে। ক্যাপ্টেন তার ছেলেমেয়েকে এতোদিন পর দেখতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়। পুরো অভিযানে কিন্তু মেরি আর রবার্ট খুব সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিল। বাবাকে ফিরে পেয়ে তারাও এইবার ভীষণ আনন্দিত। 

দীর্ঘ এই অভিযানে কিন্তু মেরি আর ক্যাপ্টেন ম্যাঙ্গলসেরও প্রণয়ের সম্পর্ক তৈরি হয়, যার পরিণয় হয় স্কটল্যান্ডে ফিরে তাদের বিয়ের মাধ্যমে।  

উপন্যাসটির শিক্ষামূলক দিক হলো- প্রত্যেকেই সাহসী এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল, যারা হাল ছেড়ে দেয় নি কোনো অবস্থাতেই। যার যার জায়গা থেকে অভিযানে সহযোগীতা করেছে, সাহস যুগিয়েছে। যে অভিযানে বেড়িয়েছে, তা তারা সফল করেই ফিরবে এই ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ ছিল। বার বার পথ হারিয়ে, ভুল করেও পিছপা হয় নি, কোনো ভাবে চিন্তাও করে নি ব্যর্থ হয়ে ফিরবে তারা। তাদের ইচ্ছাশক্তি আর ডেডিকেশনই এই অভিযানকে সফল করেছিল। 

খাতুনে জান্নাত আশা
This is Khatun-A-Jannat Asha from Mymensingh, Bangladesh. I am entrepreneur and also a media activist. This is my personal blog website. I am an curious woman who always seek for new knowledge & love to spread it through the writing. That’s why I’ve started this blog. I’ll write here sharing about the knowledge I’ve gained in my life. And main focus of my writing is about E-commerce, Business, Education, Research, Literature, My country & its tradition.
https://khjasha.com

Leave a Reply

Top