You are here
Home > বুক সামারি & রিভিউ > কিশোর ক্লাসিক- “পুডনহেড উইলসন”

কিশোর ক্লাসিক- “পুডনহেড উইলসন”

পুডনহেড উইলসন
Spread the love

(২০২০ এর সেপ্টেম্বরে লিখেছিলাম।)

 

অসুস্থ অবস্থায় গত দুই দিন বেহুশের মতো বিছানায় পরে থাকার পর আজ কিছুটা হুশ ফিরেছে, তবে উঠে বসার শক্তি এখনো ফিরে পাই নি। এতো বছর পর এভাবে একটানা বিশ্রাম খুব বোর করে দিচ্ছিল। ফোনের দিকেও তাকিয়ে থাকতে পারিনা বেশি সময়।

 

কর্মহীন জীবনের এই বোরিংনেস দূর করতে তাই শুয়ে শুয়েই পড়তে শুরু করলাম একটা কিশোর ক্লাসিক।

 

পুডনহেড উইলসন

 

পুডনহেড উইলসনমানে হলো “গবেট উইলসন”

 

 

এই উইলসনই হলো গল্পটার মূল চরিত্র, যাকে সবাই ২১ বছর ধরে গবেট নামে ডেকে এসেছে, অথচ এই গবেট লোকটাই কিনা দিন শেষে সব থেকে কঠিনতম সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে।

 

 

তবে এই গল্পটা থেকে মূল শিক্ষা হলো– “পাপ বাপকেও ছাড়ে না

 

পাপ করলে শাস্তি আপনাকে পেতেই হবে সেটা যখনই হোক, যেভাবেই হোক।

গল্পটা ক্রীতদাস প্রথা প্রচলনের সময়টা নিয়ে লেখা।

 

** যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা শহর ডসন ল্যান্ডিং এর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের দুই ভাই পার্সি দ্রিস্কল আর জর্জ দ্রিস্কল। জর্জ দ্রিস্কলের কোনো ছেলেপুলে নেই, আর পার্সির পরপর ৩টা ছেলে জন্মের পরই মারা যায়। ৪র্থ ছেলেটার জন্মদান করেই পার্সির স্ত্রী মারা যান।

 

 

একি দিনে আরেক পুত্র সন্তান জন্ম দেন পার্সির এক দাসী রক্সি। সদ্যজাত দুই ছেলে সন্তানকে একসাথে লালন পালনের দায়িত্বভার পরে রক্সির উপর। মনিবের ছেলে “টম” কে নিজের ছেলে “চেম্বার” থেকেও বেশি যত্নে বড় করতে থাকে সে।

 

 

দুইটা বাচ্চা ছেলেই দেখতে অনেক টা এক রকম ছিল যে, পোশাক পরা না থাকলে দুজন কে আলাদা করা যেত না। দাসীর ছেলের জীর্ন পোশাকই ওকে আলাদা করে রাখত। তবে একদিন হঠাৎ দাসী তার অস্তিত্ব সংকটের কথা ভেবে সব থেকে কুটিল আর ভয়ংকর সিদ্ধান্ত টা নিয়েছিল।

 

 

দুইটা বাচ্চার পোশাক অদল বদল করে দেয় সে। সেই থেকে মনিবের ছেলে টম হয়ে যায় নকল চেম্বার আর দাসীর ছেলে চেম্বার হয়ে যায় নকল টম। এই দুই নতুন পরিচয় নিয়েই বাচ্চা দুটো বড় হতে থাকে, যাদের আসল পরিচয় দাসী রক্সি ছাড়া কেউ জানে না।

 

এদিকে ডসন ল্যান্ডিং এ আগমন ঘটেছিল উকিল উইলসনের। ঘটনাক্রমে সে শহরে পা রাখার প্রথমদিন থেকেই গবেট উপাধি পেয়ে যায়, যার ফলস্বরূপ ২১ বছরেও তার কপালে কোনো কেইস লড়ার সৌভাগ্য হয় না। কিন্তু উকালতি ছাড়াও সে আরও অনেক গুনের অধিকারী ছিল।

 

 

তার মধ্যে দুটি গুণ হলোহাত দেখা, আর আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা।

 

 

এই দুইটা কাজ সে নিতান্তই শখের বসে করে থাকে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে বেড়ায়৷ তেমনি ভাবে সেই বাচ্চা দুটোর আঙুলের ছাপও সে নিয়েছিল ওদের আসল পরিচয়ে থাকা অবস্থাতেই।

 

 

বাচ্চা দুটোর পরিচয় বদলে গেলেও কিন্তু প্রকৃতিগতভাবে পাওয়া স্বভাব বদলায় নি তাদের। দুর্ভাগ্যবশত মনিবের ছেলে দাসে পরিণত হলেও তার আচরণ ছিল ভদ্র লোকেদের মতোই, আর দাসীর ছেলে মনিব হলেও সে হয়েছিল কাপুরুষ, জুয়াড়ি, চোর,মিথ্যেবাদী, মানে যত খারাপ গুন একজন মানুষের থাকতে পারে সবই তার ছিল। বংশের মান রক্ষার্থে যার জন্ম, সে বংশের কলঙ্ক হয়েছিল, আসলে যে সে আসল টম নয় তাই বা কে জানত।

 

 

একসময় বাবা পার্সির মৃত্যু হলে টমের গার্জিয়ান হয় নিঃসন্তানী চাচা জর্জ। চাচার কাছে টম বাবার চেয়েও বেশি আদর আহ্লাদ পায়। আর সেই হতভাগা চেম্বারও এখানে ক্রীতদাস হিসেবেই জায়গা পায়।

 

 

দাসীর সন্তান এই নকল টম একদিন টাকার লোভে পরে তার চাচাকেও হত্যা করতে দ্বিধা করে না, আর এটাই তার জন্য কাল হয়।

 

যে ছোরা দিয়ে সে চাচাকে হত্যা করে সেই ছোরায় তার আঙুলের ছাপ থাকে, যা গবেট উইলসন বের করে ফেলে। সেই সূত্র ধরেই উইলসন বাচ্চা দুটোর আঙুলের ছাপ মিলাতে যেয়ে তাদের আসল পরিচয় বদলে গিয়েছে সেই সন্ধানও পেয়ে যায় এবং তাদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে শাস্তি পেতে বাধ্য করে৷ আসল টমও তার দাস জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে নিজের মনিব পরিচয় ফিরে পায়।


Spread the love
খাতুনে জান্নাত আশা
This is Khatun-A-Jannat Asha from Mymensingh, Bangladesh. I am entrepreneur and also a media activist. This is my personal blog website. I am an curious woman who always seek for new knowledge & love to spread it through the writing. That’s why I’ve started this blog. I’ll write here sharing about the knowledge I’ve gained in my life. And main focus of my writing is about E-commerce, Business, Education, Research, Literature, My country & its tradition.
https://khjasha.com

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: