You are here
Home > Basic Knowledge > ই-লার্নিং(E-learning) কী? এটা কিভাবে কাজ করে?

ই-লার্নিং(E-learning) কী? এটা কিভাবে কাজ করে?

ই-লার্নিং
Spread the love

লার্নিং

 

প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে আমরা আরামপ্রিয় হচ্ছি। সবকিছু সহজে পাওয়াতে অভ্যস্ত হচ্ছি।

পড়াশোনা বা জ্ঞানার্জন ও তার ব্যতিক্রম নয়। ই-লার্নিং আমাদের দেই সহজলভ্য জ্ঞানার্জন এর মাধ্যম। ই-লার্নিং দ্বারা একপক্ষ শিখতে পারছে, আরেকপক্ষ শেখাতে পারছে। নিজে যা জানে তা, শেয়ার করতে পারছে অন্যদের সাথেও।

এতে, উভয় পক্ষ একই ভাবে সুবিধা গুলো নিতে পারছে বিধায় ই-লার্নিং দিনের পর দিন জনপ্রিয়তার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

তাছাড়া, ই-লার্নিং নেয়া বা দেয়ার মধ্যে সুবিধা গুলো হলো অবকাঠামোগত ভাবে সম্পৃক্ত।

সেগুলো নিয়ে একটু পরেই জানবো। তবে, এটা অস্বীকার করার কারণ নেই যে, বাংলাদেশে ই-লার্নিং গত ১ বছরে প্রায় আকাশ্চুম্বি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তাই, নিঃসন্দেহে বলা যায়, ই-লার্নিং এর মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চাহিদা যদি আমরা বিশ্বে অর্থের সাথে তুলনা করি তাহলে তা ২০২২ সালের মধ্যে ২৭৫ বিলিয়ন ডলার এ পৌঁছানো কোনো ব্যাপারই না।

 

লার্নিং কি

 

ই-লার্নিং এর পূর্ণ রুপ হলো ইলেকট্রনিক লার্নিং।  অর্থাৎ ইলেক্ট্রিসিটি বা বিদ্যুৎ/ব্যাটারি চালিত যে সকল ডিভাইস বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা কোনো শিক্ষা গ্রহণ বা প্রদান করি সেগুলোই ই-লার্নিং।

যেমনঃ কম্পিউটার,  মোবাইল,  নোটবুক, ট্যাবলেট ইত্যাদি।

এই সকল যন্ত্রের সাহায্যে যে শিক্ষা গ্রহণ বা প্রদান করা হয়। তবে এখানে একটা বিশেষ ব্যাপার লক্ষনীয়, তা হচ্ছে এগুলো বাড়িতে থাকলেই যে আপনি ই-লার্নিং করতে পারবেন তা কিন্তু না।

ই-লার্নিং এর প্রথম ও প্রধান শর্তই হচ্ছে এই সকল ইলেকট্রনিক ডিভাইস এর সাথে অবশ্যই ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে তাহলেই ই-লার্নিং করা সম্ভব।

 

কখন থেকে লার্নিং এর আবির্ভাব ঘটে

 

এলিয়ট মাইজ ১৯৯৯ সালে প্রথম ই-লার্নিং শব্দযুগল এর আবির্ভাব ঘটান। এটি প্রথমদিকে প্রফেশনালি ব্যবহার করা হলেও পরবর্তী তে এর বিস্তৃত ব্যবহার শুরু হয়। যত দিন যাচ্ছে ই-লার্নিং ততই শক্ত অবস্থান করে নিচ্ছে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়তায়।

 

কি কি কারণে লার্নিং এতো জনপ্রিয়তা পেয়েছে

 

ইন্টারনেট এর কারণেঃ

 

ইন্টারনেট উদ্ভাবনের আগে মানুষ ছাপানো লেখা, বিভিন্ন সিডি, ভিডিও, রোম, একাডেমিক দেয়াল-ঘর এসবের উপর নির্ভর ছিল জ্ঞান লাভের জন্য।

কিন্তু, ইন্টারনেট এর আবির্ভাবের পর মানুষ ঘরে বসেই  এই ইন্টারনেট দ্বারা পড়াশোনা ও জ্ঞানার্জন করে এই একঘেয়ে ও প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার অবসান ঘটায়। যেটা এখন ই-লার্নিং হিসেবে পরিচিত আমাদের কাছে।

ইন্টারনেট ছাড়া ই-লার্নিং অসম্ভব।  কারণ, ইন্টারনেট এর সংযোগ যেকোনো ই-লার্নিং এ একদম খুটিনাটি বিষয় গুলো তুলে আনতে ও জানতে সাহায্য করে।

 

মাল্টিমিডিয়ার উন্নয়নের কারণেঃ

 

মাল্টিমিডিয়ার উন্নয়নের কারণে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, শিক্ষার্থী রা লেখা,ছবি, ভিডিও, অডিও এমনকি এই রিলেটেড গ্রাফিক্সের কাজগুলোও একই জায়গায় একত্রে রেখে পড়াশোনা করতে পারছে এবং সনাতন শিক্ষা ব্যবস্থার থেকেও ই-লার্নিং এ বেশি সম্পৃক্ত থাকছে।

এর কারণে শিক্ষার্থী রা একাধারে বিনোদন,  শিক্ষা, ব্যবসা, প্রফেশনাল কাজ সবই একসাথে একজায়গায় করতে পারে।

তাই, মাল্টিমিডিয়ার অনেক বড় অবদান ই-লার্নিং এর বর্তমান অবস্থান তৈরিতে।

 

সুলভ মূল্যের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বা ডিজিটাল ডিভাইসঃ

 

১৯৮২ সালের ১২ আগস্ট প্রথম যে আইবিএম কম্পিউটার বের হয় তার বর্তমান মূল্য ৫০০০ ডলার, যা খুবই ব্যয়বহুল।

ইলেকট্রনিক ডিভাইস গুলোর মূল্য সাধ্যের মধ্যে হওয়ায় ই-লার্নিং বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে নিঃসন্দেহে।

কারণ এখন, ১২০০০ টাকায় এন্ড্রয়েড মোবাইল পাওয়া যায়, এছাড়াও আরও কম দামী মূল্যের মোবাইল গুলোতে ইন্টারনেট ব্রাউজিং অপশন থাকলেই, ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে ই-লার্নিং করা খুব সহজ ও সুলভ এখন।

 

কাঠামোগত লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমঃ

 

এটাকে ইংরেজি তে LMS ( Learning Management System) বলা হয়। লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যত দিন যাচ্ছে তত বাস্তবধর্মী হচ্ছে। ই-লার্নিং জনপ্রিয় হওয়ার এটি আরও একটি কারণ।

যেমন_যেকোনো বিজনেস, প্রফেশনাল বা একাডেমিক পড়া পড়ার জন্য আলাদা করে কোনো হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার সেট করা বা ইন্সটল করার প্রয়োজন হয় না। যেকোনো ওয়েব পোর্টালে শিক্ষক বা শিক্ষার্থী রা লগ ইন করলেই জ্ঞান আদান-প্রদান করতে পারে। অনেক সময় ওয়েব পোর্টালে লগ ইন ছাড়াও শুধু সাইট একসেস হলেই পড়া যায়।

তাই, এই কাঠামোগত লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অনেক ভূমিকা রাখছে ই-লার্নিং কে সহজলভ্য করতে।

 

লার্নিং কিভাবে প্রদান করা হয়

 

মূলত, ৩ ভাবে ই-লার্নিং প্রদান করা হয়।

 

LMS ব্যবহার করেঃ

এটা একটা সফটওয়্যার এপলিকেশন। যা ব্যবহার করে অনলাইন ট্রেনিং গুলো প্রদান করা হয়।

একটা উন্নত LMS,  ই-লার্নিং এর জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো অনুকূলীয় কৌশল গুলো প্রাদান করতে যথাযথ ভূমিকা রাখে।

প্রথমেই LMS এপ্লিকেশন ক্ষতিকর হতে পারে তাই আগে বুঝতে হবে ব্যবহার কারীর মূল প্রয়োজনীয়তা কি, কি খুঁজবে এসব ঠিক করে নিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের LMS আছে। যেমনঃ ক্লাউড নির্ভর, ওপেন সোর্স, ইন্সটল নির্ভর।

 

SCORM ব্যবহার করেঃ

SCORM এর পূর্ণ রুপ হলো Shareable Content Object Reference Model.

এটি ই- লার্নিং এর বিষয়বিস্তুর উন্নয়ন ঘটায় ও এর ব্যবহার নিশ্চিত করে। তবে, SCORM ব্যবহার করার জন্য এর সহযোগী হিসেবে লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। তবে, এই SCORM এর ব্যবহার ই-লার্নিং এর ব্যয় বাড়িয়ে দেয় এর টুলস গুলো ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ প্রদান করার কারণে।

 

xAPI ব্যবহার করেঃ

এটি অনলাইন ট্রেনিং গুলো প্রদান করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এটা SCORM এর ব্যবহার টা কে সহজ করতে সাহায্য করে। xAPI মূলত SCORM এর আপডেট ভার্সন বলা চলে।

 

লার্নিং প্রদানের পদ্ধতিগুলো কি কি

 

একটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান যে সকল পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের কোম্পানির কর্পোরেট ট্রেনিং প্রোগ্রাম কিংবা যেকোনো একাডেমিক প্রোগ্রামগুলো সাজাতে পারে তা হলোঃ

 

ওয়েব লার্নিং

ওয়েবসাইট কন্টেন্ট এর মাধ্যমে করে ওয়েব ই-লার্নিং। যেখানে কর্মীরা তাদের নিজেদের ডিভাইস বা কোম্পানির নির্ধারিত কম্পিউটার থেকে একসেস করে ই-লার্নিং করে। যেমনঃ www.bangladesh.com.bd

 

ভার্চুয়াল ক্লাসরুম এটা একটা ভিডিও সফটওয়্যার।  যার দ্বারা প্রশিক্ষক ও শিক্ষার্থী বা কর্মী উভয় পক্ষ ভিডিওর মাধ্যমে শারীরিক ভাবে ট্রেনিং বা ক্লাসে ঢুকতে পারে। তবে এটি কনফারেন্স মোডেও পরিচালনা করা যায় ভিডিও বন্ধ রেখে।

যেমনঃ zoom cloud meeting apps. ইত্যাদি।

 

ভিডিও মডিউল ভিডিও রেকর্ড করে তা সবার জন্য উপস্থাপন করা যেটা থেকে সবাই শিখতে পারবে।

যেমনঃ YouTube ইত্যাদি।

 

স্পেশালাইজড লার্নিং – এটা মূলত প্রতিষ্ঠান এর নিজস্ব কর্মীদের কে শেখানোর জন্য স্পেশালি করা হয়ে থাকে। যা উক্ত প্রতিষ্ঠান এ নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ ই-লার্নিং এর মাধ্যমে আহিখে নিতে পারে। যেমনঃ ডকুমেন্টারি,  দৃশ্য, কোম্পানির এলিভেটর স্পিচ ইত্যাদি।

 

সোস্যাল মিডিয়া ট্রেনিংঃ সোস্যাল মিডিয়া অর্থাৎ ফেসবুক,  ইন্সটাগ্রাম,  টুইটার কে ব্যবহার করে যেকোনো একটা দল বা গোষ্ঠী কে যাবতীয় জ্ঞান সরবরাহ করা ও তা থেকে উক্ত ব্যক্তিবর্গ ই-লার্নিং করা। যেমনঃ Digital skills for Bangladesh facebook group ইত্যাদি।

 

মাইক্রো লার্নিংঃ এটা মূলত নির্দিষ্ট একটা টপিকের উপর বেস করে করা। সর্বোচ্চ ১০ মিনিট বা তার কম সময়ের হয়।

 

মোবাইল লার্নিং এটি সবথেকে জনপ্রিয় পদ্ধতি ই-লার্নিং করার। এর দ্বারা আমরা যেকোনো অবস্থায়, যেকোনো সময়ে এমনকি নৌকা জার্নি করলেও ই-লার্নিং করতে পারি। বাড়িতে বা অফিসে, রাস্তায় বা মাঠে যেকোনো জায়গায়।

 

যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য লার্নিং এর গুরুত্ব কতটুকু

 

প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে যে ৪ টি দিকে ই-লার্নিং সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তা হলো_

 

খরচ বাচাঁয়ঃ

অফলাইন পড়াশোনা,  ট্রেনিং সবকিছুই অনেক ব্যয়বহুল।

তাছাড়া, এগুলো মেইনটেইন করাও খুব কঠিন তাই  এক্ষেত্রে ই-লার্নিং এর ব্যবহার এই অহেতুক খরিচ বাচিঁয়ে দিতে পারে।

যখন তখন কোনো কাগজপত্র বা প্রিন্টিং এর ঝামেলা ছাড়াই লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এ পরিবর্তন আনা যায় খুব সহজেই।

 

সময় বাঁচায়ঃ

ই-লার্নিং পড়াশোনায় খরচ বাচিঁয়ে দেয়। এমনকি কোনো মিটিং বা ট্রেনিং এর ক্ষেত্রেও দেখা যায় ট্রেডিশনালি আয়োজন করতে গেলে তা গোছাতে গোছাতে অনেক সময় নষ্ট হয়। কিন্তু, ই-লার্নিং এ এসবের কোনো ঝামেলা নেই।

 

কর্মদক্ষতা উৎপাদনশীলতা বাড়ায়ঃ

ই-লার্নিং এর ফলে কর্মীরা খুব দ্রুত কাজের ধরন বুঝে কাজে নেমে যেতে পারে। এর জন্য প্রতিষ্ঠান এ হাজির হওয়ার চাপ থাকেনা ফলে, নিজের পছন্দের জায়গায় নিজের মত করে কাজ করে যেতে পারে ও ভাল ফলাফল বয়ে আনে।

এভাবে কর্মীদের কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ে।

 

পরিবেশগত বিরুপ প্রভাব কমিয়ে আনেঃ

একটা প্রতিষ্ঠান এ ট্রেডিশনালি কাজ করতে গেলে পরিবেশগত অনেক ব্যাপার আসে যা, আমাদের জন্য বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে। যেমনঃ কাগজের ব্যবহার কমিয়ে আনে ই-লার্নিং।  কাঠা, বাশ, ঘাস, পুরনো কাপড় কাগজ তৈরির প্রধান উপাদান।

 

কর্পোরেট সেক্টর বা একাডেমিক প্রতিষ্ঠান গুলোতে  যে পরিমাণ কাগজ লাগে তাতে আমাদের পরিবেশে একটা বিরুপ প্রভাব ফেলে এই কাগজ তৈরির মূল উপাদানের যোগান দিতে। তাই, ই-লার্নিং পরিবেশবান্ধব কর্মস্থল গঠনেও ভূমিকা রাখে।

ই-লার্নিং এর গুরুত্ব অপরিসীম। যারা ই-লার্নিং করে তারা উপলব্ধি করতে পারে। ই-লার্নিং এর মুঠোফোন-লার্নিং টা আমাদের জীবন যাত্রার মান কে এতো সহজ করছে দিনের পর দিন যা অকল্পনীয়।

মহামারী প্রাদুর্ভাব এ গত ১ বছরে ই-লার্নিং এর গুরুত্ব আমরা প্রাকটিক্যালি উপলব্ধি করার সুযোগ পেয়েছি। আমরা হাটতে, বসতে, ভ্রমণ করতে যেকোনো পরিস্থিতিতে ই-লার্নিং করতে পারছি।

ই-লার্নিং এর জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় কারণ গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, ই-লার্নিং এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে বই-পুস্তক বহন করার ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়েছে। ই-বুক আমাদের জন্য বিনোদনের সাথে সাথে জ্ঞানার্জন এর সুযোগ দিচ্ছে।

 

Writer: Ahmed Bosry
                                                                             Writer: Ahmed Bosry

Spread the love
খাতুনে জান্নাত আশা
This is Khatun-A-Jannat Asha from Mymensingh, Bangladesh. I am entrepreneur and also a media activist. This is my personal blog website. I am an curious woman who always seek for new knowledge & love to spread it through the writing. That’s why I’ve started this blog. I’ll write here sharing about the knowledge I’ve gained in my life. And main focus of my writing is about E-commerce, Business, Education, Research, Literature, My country & its tradition.
https://khjasha.com

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: