You are here
Home > বুক সামারি & রিভিউ > “আকাশ যারা করল জয়”- রাইট ব্রাদার্সদের গল্প

“আকাশ যারা করল জয়”- রাইট ব্রাদার্সদের গল্প

আকাশ যারা করল জয়
Spread the love

আকাশ যারা করল জয়

 

 

রাইট ব্রাদার্সদের নিয়ে লেখা এই বইটা পড়ে শেষ করেছি।

 

পড়ে যা মনে হলো, ওদের মা সুসান রাইটই গল্পের মূল নায়িকা। ছেলে মানুষী স্বভাব, তবে বেশ বুদ্ধিমতী একজন নারীর প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি আমি তার মাঝে।

 

আর আদর্শ একজন মা মনে হচ্ছে উনাকে যিনি সব ব্যাপারেই পজিটিভ এবং বাচ্চাদের কোনো কথা বা কাজ কে কখনো হেয়ালী করে উড়িয়ে দেন না। বরং উনার প্রতিটি কথা কাজ বাচ্চাদের সব কাজের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।

এজন্য উনাকে অবশ্য অনেক কটু কথাও শুনতে হয় যে, বাচ্চাদের বেশি প্রশ্র‍য় দিয়ে নষ্ট করে ফেলছেন। তাতেই বা কি! লোকের কথায় কি আসে যায়! উনি তো জানেন, উনি সন্তানদের সঠিক পথেই গাইড করছেন।

 

আমরা সাধারণত দেখতে পাই, বাচ্চারা খুব বেশি কৌতূহলী হয়। এটা কি? ওটা কি? কেন হলো? এসব হাজার টা প্রশ্ন তারা করতে থাকে সারাক্ষন। এতে বেশির ভাগ মায়েরাই খুব বিরক্ত হয়, ধমক দেয়। এতে কিন্তু বাচ্চাদের জানার আগ্রহটা কিন্তু মরে যায়।

 

এছাড়াও আমরা কমন কিছু নেগেটিভ বাক্য মায়েদের কাছে শুনতে পাই-

 

* তোমাকে এটা নিয়ে ভাবতে হবে না,

* তুমি এটা কেনো করছ?

* এসব আজগুবি ভাবনা তোমার মাথায় আসে কিভাবে?

* তুমি এটা পারবে না,

* ডিস্টার্ব করো না তো

* এতো কথা বলছ কেন?

* এতো প্রশ্ন করছ কেন?

 

এই নেগেটিভ বাক্যগুলো কিন্তু বাচ্চাদের উপর খুব বেশি বেড ইফেক্ট ফেলে। একে তো বাচ্চারা জানার আগ্রহ হারায়, এছাড়াও মায়েদের সাথে একটা দূরত্বও অনেক সময় বেড়ে যায়।

 

 

তাই সুসান রাইট মায়েদের জন্য উদাহরণ রেখে গেছেন বলে মনে হচ্ছে আমার। মায়েদের আসলে হতে হবে বন্ধুর মতো যার সাথে নির্দ্বিধায় সব শেয়ার করা যায়, যার সাথে কথা বলে সব কৌতুহল মেটানো যায়।

 

সুসান রাইট বাচ্চাদের সব প্রশ্নের উত্তর পজিটিভলি দিতেন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।

 

পাখির উড়া দেখে যখন বাচ্চারা কৌতুহলী হয়ে প্রশ্ন করছিল, বলছিল ওরা এমন কিছু বানাতে চায়, যার মাধ্যমে এক সময় পাখির মতো উড়তে পারবে তারা। এটা শুনে কিন্তু সুসান রাইট বলেনি যে, তোমারা কি অদ্ভুত কথা বলছ! বা এমন টা কখনো সম্ভব নয়!

 

উনি বাচ্চাদের উপরই সেটা ছেড়ে দিয়েছেন। এতে বাচ্চারাও আগ্রহ হারায় নি, সেই ইচ্ছে টা তাই মনে প্রানে ধারণ করেছে, একদিন তারা সেটা বানাবেই।

 

বুদ্ধিমতী সুসান রাইট তখন অসম্ভব কে সম্ভব করেছেন বাচ্চাদের নিয়ে স্লেড তৈরীর মাধ্যমে। ওদের মা স্লেড তৈরীতে সাহায্য করেছে শুনে সবাই হেসেছিল। কিন্তু সেটাই ছিল সবচেয়ে দ্রুতগামী স্লেড, যা তৈরী করা হয়েছিল বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে, বাতাসের চাপ থেকে মুক্ত থেকে দ্রুত চলার উপযোগী করে।

 

সব থেকে শিক্ষনীয় এবং লক্ষনীয় ব্যাপারটা ছিল- প্রথমে স্লেডের নকশা তৈরী।

যে কোনো জিনিস তৈরীর আগে সেটার একটা প্রোটোটাইপ আগে বানাতে হয় এই দারুণ শিক্ষাটা উনি বাচ্চাদের দিয়েছেন, যা ওদেরকে পারফেক্ট মেজারমেন্টের স্লেড বানাতে সাহায্য করেছিল, এবং সেটাকে বাচ্চারা পরবর্তীতে মায়ের সাহায্য ছাড়াই আরও আপগ্রেড করতেও সক্ষম হয়েছিল।

 

কি দারুণ ব্যাপার না!!

 

সব যদি সুসান রাইটের মতো বাচ্চাদের গড়ে তুলত, তবে হয়ত প্রতিটা বাচ্চাই কিছু না কিছু আবিষ্কার করে ফেলত।

 

আমার মতে প্রত্যেকেরই এই বইটা পড়া উচিত।

 

ঠিক যখন অলিভ ইঞ্জিন চালিত গ্লাইডার নিয়ে প্রথম আকাশে উড়ল, আর মাটিতে নেমে আসল। ওই মুহূর্তটা কল্পনা করে উত্তেজনায় আর আনন্দে সত্যিই আমার চোখের কোনে জল চিকচিক করে উঠেছে। এক ফোঁটা আনন্দঅশ্রু গড়িয়ে পরেছে।

 

ভাবছি প্রথম আকাশে উড়ার এরোপ্লেন আবিষ্কারকদের কথা, তাদের আবেগ অনুভূতিটা ফিল করতে পারছি যেন!!

আমি খুব ইমোশনাল বলেই কি এমনটা ফিল করছি, নাকি সবারই এমন হয়!!

একটা বই এর অনেক শক্তি!!!

 

এই কিশোর ক্লাসিক থেকে এতো কিছু শেখার আছে, যা পুরোটা না পড়লে অনুভব করা সম্ভব নয়। সবাই পড়বেন আশা করি।


Spread the love
খাতুনে জান্নাত আশা
This is Khatun-A-Jannat Asha from Mymensingh, Bangladesh. I am entrepreneur and also a media activist. This is my personal blog website. I am an curious woman who always seek for new knowledge & love to spread it through the writing. That’s why I’ve started this blog. I’ll write here sharing about the knowledge I’ve gained in my life. And main focus of my writing is about E-commerce, Business, Education, Research, Literature, My country & its tradition.
https://khjasha.com

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this: